খেলাধুলা

স্বর্ণালী অতীত দিচ্ছে আত্মবিশ্বাস, তবে শুরু করতে হবে শূন্য থেকেই

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে শেষ মুখোমুখিতে বাংলাদেশের সাফল্যে ছিল অভাবনীয়। পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। যা দেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় সাফল্যগুলির একটি।

অথচ ২০২৪ এর আগ পর্যন্ত ১৩ টেস্টে বাংলাদেশ কোনো জয় তো পায়নি, ড্র করতে পেরেছিল মাত্র একটি। পরাজয়ের মিছিল লেগেই ছিল। অথচ সেই দলটাই সময়ের ব্যবধানে এখন কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠেও জয়ের স্বপ্ন দেখা, আঁকাবুকি করা সময়েরই দাবি।

স্বর্ণালী অতীত থেকে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবেও দল এ-ও জানে ২২ গজে সবকিছু শুরু করতে হবে শূন্য থেকেই। মাঠে নামার আগে মিরপুরে নাজমুল হোসেন শান্ত সেই কথাই বললেন, ‘‘আমার মনে হয় শেষ সিরিজটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছিলাম। সেটা অতীত হয়ে গেছে। অবশ্যই ওই সিরিজটা আমাদেরকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিবে। কিন্তু এই সিরিজে আমাদেরকে আবার ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রত্যেকটা দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। তাহলেই হয়তো ফল আমাদের পক্ষে আসবে। কিন্তু রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি আমরা চিন্তা করছি না। আমার মনে হয় যে প্রত্যেকটা দিন ভালো ক্রিকেট খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটা দিন প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ।’’

পাকিস্তান প্রতিশোধ নেওয়ার মুডেই আছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে পাকিস্তানের পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি জানিয়েছেন, তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের ফাইনাল খেলবে। এজন্য তারা জিততে চায় হোম ও অ্যাওয়ের সব ম্যাচ। নাজমুলও জানেন সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। এজন্য স্বাগতিকরাও বেশ সতর্ক, ‘‘খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় শেষ দুই বছর আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। সাত নাম্বারে শেষ করেছি গত চক্রে। আমার মনে হয় এটা ভালো একটা অর্জন। ধীরে ধীরে এই জায়গাতে উন্নতি হচ্ছে। এ বছর টার্গেট থাকবে আর একটু যদি ভালো পারফর্ম করতে পারি চার-পাঁচ এরকমই যদি শেষ করতে পারি খুবই ভালো লাগবে।’’

দুই দলেই রয়েছে পেসারের সমারোহ। শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মাদ আব্বাস, হাসান আলী, খুররাম শাহজাদ ও আমাদ বাট রয়েছে। বাংলাদেশের স্কোয়াডে আছে তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম। দুই দলের পেসারদের মধ্যে নাজমুল এগিয়ে রাখলেন নিজের দলকেই, ‘‘পেস বোলিং বিভাগ নিয়ে আমি বলব যে, দুই দলেরই ভালো পেস অ্যাটাক। কিন্তু আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন আমি বলব যে আমাদের পেস বোলিং অ্যাটাক হয়তো সামান্য একটু আগায় আছে। শেষ কয়েক বছর যদি আমি দেখি ওরা যেভাবে বোলিং করছে। কিন্তু পাকিস্তান অলওয়েজ পেস বোলিংয়ে সেরা। তাদের বোলিং অ্যাটাক নিয়ে কথা হয়। এটা নিয়ে দ্বিধা নেই। তাদেরকে ওই ক্রেডিট দিতেই হবে।’’

মিরপুরের উইকেট নিয়ে অনেক উৎকণ্ঠা। উইকেট এখনও সবুজাভ। উইকেট নিয়ে শান্তর প্রত্যাশা, ‘‘ভালো উইকেট হবে আশা করছি। উইকেটটা যেরকমই থাকুক ভালো পেসার ভালো স্পিনার আমাদের দুই দিকেই আছে। প্রপার স্পোর্টিং উইকেট থাকলে আমাদের টিমের জন্য ভালো। সামনের পাঁচ দিনে কি হবে ওয়েদারের ওপর অনেক কিছু ডিপেন্ড করে। সো ওই অনুযায়ী ওই অ্যাডজাস্টমেন্টগুলো আমাদের করতে হবে এবং আমি মনে করি যে যেই ব্যাটসম্যান এবং বোলারগুলো আমাদের টিমে আছে তারা ক্যাপেবল টু অ্যাডজাস্ট ওই সিচুয়েশনগুলো।’’