খেলাধুলা

এল ক্লাসিকোতে রিয়ালকে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন বার্সা

এল ক্লাসিকোতেই শিরোপা উৎসব। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়েই লা লিগার মুকুট পুনরুদ্ধার করল বার্সেলোনা। রবিবার রাতে কাম্প ন্যুতে দাপুটে ফুটবল খেলে ২-০ গোলের জয় তুলে নেয় হানসি ফ্লিকের দল। মৌসুম শেষ হতে এখনও ৩ ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয়ে যায় কাতালানদের শিরোপা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল বার্সেলোনা। আর সেই চাপের ফল আসে দ্রুতই। ৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে দলকে এগিয়ে দেন মার্কাস রাশফোর্ড। বক্সের ঠিক বাইরে ফেরান তোরেসকে ফাউল করেছিলেন আন্তোনিও রুডিগার। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

রাশফোর্ডের গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আরও বড় ধাক্কা খায় রিয়াল। ১৮ মিনিটে দানি ওলমোর অসাধারণ দক্ষতায় তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। ক্রস থেকে আসা বল পেছনে ফ্লিক করে বাড়িয়ে দেন ওলমো। আর সুযোগ বুঝে জোরালো শটে গোল করেন তোরেস।

শুরুতেই ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে পুরো ম্যাচেই ছন্দহীন ছিল তারা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র শুরুতে কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে খুব বেশি পরীক্ষা নিতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধে একবার বল জালে জড়িয়েছিলেন জুড বেলিংহাম। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। এরপর আর সত্যিকার অর্থে ম্যাচে ফেরার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মাদ্রিদের ক্লাবটি।

অন্যদিকে বার্সেলোনা আরও কয়েকটি গোল পেতেই পারত। বিশেষ করে রাশফোর্ড ও তোরেসের অন্তত ২টি নিশ্চিত সুযোগ দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

ম্যাচজুড়ে উত্তেজনাও কম ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকবার হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়রা জড়িয়ে পড়েন উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায়। পরে দানি ওলমো ও রাউল আসেনসিওকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। আরেক দফা খেলা বন্ধ রাখতে হয় এরিক গার্সিয়ার কনুইয়ের আঘাতে বেলিংহাম পড়ে গেলে।

এই জয়ে ৩ ম্যাচ হাতে রেখেই শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ব্যবধান দাঁড়ায় ১৪। ফলে গাণিতিকভাবেই আর তাদের ধরা সম্ভব নয় রিয়ালের।

শিরোপা জয়ের এই রাতটি আবেগঘনও ছিল বার্সেলোনার জন্য। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে ক্লাব জানায়, কোচ হানসি ফ্লিকের বাবা মারা গেছেন। তবু দলের দায়িত্বে ছিলেন জার্মান এই কোচ। ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়, আর দুই দলের খেলোয়াড়রাই কালো ব্যাচ পরে মাঠে নামেন।