খেলাধুলা

২৬০ হলেই পাকিস্তানকে হারানো সম্ভব: আশরাফুল

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই এখন এমন উচ্চতায় চলে গেছে যেখানে ড্র করা মানেই ছিটকে যাওয়া। পাঁচদিনে টেস্ট যাওয়া মানে বিশেষ কিছু। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট এখন ব্র্যান্ড হয়ে গেছে। ফল পাওয়া যায় তিন-চার দিনেই। নিজেদের ডেরায় প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করা রীতি বানিয়ে ফেলেছে স্বাগতিকরা।

চলমান ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশ কী ফল চাইছে? বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে দলের ব্যাটিং দেখে তেমনটা মনে না হওয়াটা স্বাভাবিক। ৩.০১ রান রেটে ৫০.৩ ওভারে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ১৫২। লিড ১৭৯ রানের। ম্যাচের যা অবস্থা তাতে এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না কাউকে।

তবে বাংলাদেশের দাবি, ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনাতেই লড়াই করছে। পঞ্চম দিনে ভালো কিছুর প্রত্যাশায় টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন-

প্রশ্ন: শুরুটা ভালো হলেও পরে রান তোলার গতি কমে গেল কেন? আশরাফুল: আমরা ভালো শুরু করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ছন্দ একটু নষ্ট হয়েছে। তবে আমি মনে করি না ব্যাটসম্যানরা খুব ধীরে খেলেছে। টেস্ট ক্রিকেট যেভাবে খেলা উচিত, তারা সেভাবেই খেলছে। বৃষ্টি তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তারপরও আমি মনে করি, কাল সকালে যদি ভালো ব্যাটিং করতে পারি, তাহলে এখনও ম্যাচ জেতা সম্ভব।

প্রশ্ন: এখন ম্যাচ জেতার পরিকল্পনা কী? কত রানের লিড নিরাপদ হতে পারে? আশরাফুল: এখনও ঠিক করিনি কত রান করে ইনিংস ঘোষণা করবো। তবে আমরা অবশ্যই জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলছি। আমাদের স্পিন ও পেস আক্রমণ ভালো। যদি কাল ৭০-৭৫ ওভার বল করতে পারি, তাহলে জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। আমার মনে হয়, ২৬০ রানের মতো টার্গেট দিতে পারলে ম্যাচ জেতা সম্ভব।

প্রশ্ন: ওপেনারদের ব্যর্থতা কি দুশ্চিন্তার কারণ? আশরাফুল: একদমই না। আগের সিরিজে ওপেনাররা দারুণ করেছে। তিন ইনিংসে ১০০ রানের জুটি ছিল। জয় ১৭১ রান করেছে, সাদমানও ধারাবাহিক রান করেছে। এখানে দুই ইনিংসে রান হয়নি, কারণ আমরা কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করেছি। নতুন বল সামলানো সহজ ছিল না। আমি আশা করি, পরের ম্যাচেই তারা আবার ফর্মে ফিরবে।

প্রশ্ন: শেষ দিকে ব্যাটসম্যানরা কি ইচ্ছে করেই ধীরে খেলেছে? আশরাফুল: পাকিস্তানের বোলাররা খুব পরিকল্পিতভাবে বল করেছে, বিশেষ করে পেসাররা। তারা সহজ বল দেয়নি। তাই আমাদের ব্যাটসম্যানরাও টেস্ট ক্রিকেটের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলেছে। এটা পরিকল্পনারই অংশ ছিল।

প্রশ্ন: তানজিদ তামিমকে পরের ম্যাচে ওপেনার হিসেবে দেখার সম্ভাবনা আছে? আশরাফুল: এটা নির্বাচকরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার মতে, যারা সাম্প্রতিক সময়ে পারফর্ম করেছে, তাদের আরও সুযোগ পাওয়া উচিত। দুই ইনিংসে ব্যর্থ হলেই পরিবর্তন করা ঠিক হবে না।

প্রশ্ন: বৃষ্টির কারণে সময় কমে যাওয়ায় কি দ্রুত রান তোলার পরিকল্পনা ছিল? আশরাফুল: টেস্ট ক্রিকেটে এখনও অনেক ওভার বাকি। তাই তাড়াহুড়ো না করে ভালো ব্যাটিং করাটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সাম্প্রতিক অনেক ম্যাচেই দেখা গেছে, তৃতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাটিং না করলে ফল নেতিবাচক হয়েছে। মমিনুল ও শান্ত দারুণ জুটি গড়েছে, মুশফিকও বাজে বল শাস্তি দিয়েছে। পরিকল্পনা পরিষ্কার ছিল।

প্রশ্ন: মমিনুলের স্লেজিং সামলানো নিয়ে কী বলবেন? আশরাফুল: এটা তার ৭৬তম টেস্ট। বাংলাদেশের হয়ে ৫০০০ রান করেছে। এই ধরনের পরিস্থিতি সে অনেকবার সামলেছে। অভিজ্ঞতার কারণেই সে শান্ত থেকেছে এবং স্লেজিংয়ের জবাব ব্যাট দিয়েই দিয়েছে।

প্রশ্ন: মমিনুলকে তিন নম্বরে কতটা সফল মনে করেন? আশরাফুল: অবশ্যই সফল। সে তিন ও চার—দুই পজিশনেই খেলেছে। আমাদের টেস্ট দলের ব্যাটসম্যানরা অনেক অভিজ্ঞ। পরিস্থিতি অনুযায়ী দায়িত্ব নিয়ে খেলছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: মমিনুল কি ভবিষ্যতে ১০০ টেস্ট খেলতে পারবেন? আশরাফুল: আমি আশা করি, মুশফিকের পরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে সে ১০০ টেস্ট খেলবে। সাম্প্রতিক ইনিংসগুলোতে সে ধারাবাহিক অবদান রাখছে। আশা করবো, আবার বড় সেঞ্চুরিও করবে।

প্রশ্ন: তার ধীরগতির ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা আছে। কী বলবেন? আশরাফুল: ধীর ব্যাটিং কোথায়? এটা টেস্ট ক্রিকেট। তার স্ট্রাইক রেট সাধারণত ৪৭-৫০ এর মধ্যে থাকে। চ্যালেঞ্জিং উইকেটে এটা ভালোই। ফ্ল্যাট উইকেটে সে আরও দ্রুত খেলতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাটাই আসল।

প্রশ্ন: আরও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার সুযোগ ছিল কি? আশরাফুল: আমরা দীর্ঘদিন টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে ছিলাম। সাড়ে পাঁচ মাসে খুব কম ফার্স্ট-ক্লাস ম্যাচ খেলেছি। নিয়মিত ভালো উইকেটে খেললে দ্রুত রান তোলার অভ্যাস তৈরি হয়। আগে আমাদের উইকেটগুলো এত ভালো ছিল না। এখন ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। এটা অভ্যাসের ব্যাপার।