খেলাধুলা

সাহসী পরিকল্পনায় সফল বাংলাদেশ

স্কোর: পাকিস্তান ৬/১ (টার্গেট ২৬৮)

বাংলাদেশ ২৪০/৯ (ডিক্লেয়ার) , লিড ২৬৭ রান

বিরতির ঠিক আগে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে নামিয়ে মনোবল নষ্ট করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। সাহসী পরিকল্পনা কাজে দিয়েছে। তাসকিন আহমেদ নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নিয়েছেন অভিজ্ঞ ইমাম উল হকের উইকেট। তাতে প্রবল চাপ নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে দুই দল। 

তার অফস্টাম্পের বাইরের বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইমাম। বল যায় লিটনের গ্লাভসে। বিরতির আগে ৪ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ১ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচে এখন এগিয়ে। 

সাহসী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের

হাতে ১ উইকেট থাকলে বিরতির আগে পাকিস্তানকে বাজিয়ে দেখতে আগেভাগে ইনিংস ঘোষণা করলো বাংলাদেশ। যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুলের সাহসী সিদ্ধান্ত। সকালের সেশনে ২০ ওভার খেলেছে বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে যোগ হয়েছে ৮৮ রান। তাতে বাংলাদেশের লিড ২৬৭ রানের।

শেষ উইকেটে হয়তো আরও কিছু রান যোগ হতো কিংবা যোগ নাও হতে পারত। কিন্তু জয়ের জন্য সময় নষ্ট করতে চায়নি বাংলাদেশ। এজন্য আগেভাগে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে বিরতির আগে মাঠে নামিয়েছে দল। 

পাকিস্তানের টার্গেট ২৬৮

প্রথম বলেই ছক্কা। পরের বলে ১ রান। তাসকিনের মারমুখী ব্যাটিংয়ের কারণ ছিল স্পষ্ট। যতটা সম্ভব রান আদায় করে নেওয়া। পরে হাসান আলীকে একটি চার মেরেছিলেন লেজের ব্যাটসম্যান তাসকিন।

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। হাসান আলীকে উড়াতে গিয়ে তাসকিন ক্যাচ দিলেন মিড উইকেটে। ৫ বলে ১১ রানে থেমে যায় তাসকিনের ইনিংস। সেখানেই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। 

প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিড সহ বাংলাদেশের পুঁজি ২৬৭ রান। পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ। বৃষ্টি ও আলোক স্বল্পতায় খেলা না হলে ৭৫ ওভারের মতো খেলা হতে পারে আজ। 

মিরাজের উইকেট নিয়ে নোমানের সেঞ্চুরি

স্পিনার নোমান আলীর বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সালমান আলা সহজতম ক্যাচ নিয়ে মিরাজকে ফেরান সাজঘরে।

২৪ রানে থেমে যায় মিরাজের ইনিংস। এই উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন নোমান। ওই ওভারের শেষ বলে তাইজুলকে বোল্ড করেন বাঁহাতি স্পিনার। 

লিড আড়াইশ ছাড়িয়ে, জোড়া সেঞ্চুরি হলো না নাজমুলের

প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর। সেই পথেই ছিলেন তিনি।

দারুণ ব্যাটিংয়ে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ৮৭ রানে তাকে আটকে দিলেন নোমান আলী। বাঁহাতি স্পিনারের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন। রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত টিকে যায়। ১৫০ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান তিনি। 

নাজমুলের ফেরার পর বাংলাদেশের লিড আড়াইশ রান ছাড়িয়েছে। ২৬০ রানের আশেপাশে লিড চেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই পথেই এগিয়ে যাচ্ছে স্বাগতিকরা।  

বাংলাদেশের দুইশ

দ্বিতীয় ইনিংসে দুইশ রান ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের উইকেট হারানোর পর ক্রিজে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গী মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ। 

সীমানায় ধরা পড়লেন লিটন

দ্রুত রান তোলার তাড়ায় শাহীন শাহ আফ্রিদির বাউন্সারে পুল শট খেলেছিলেন লিটন। শট দেখে মনে হচ্ছিল ছয় হয়েই যাবে। কিন্তু সীমানায় গিয়ে ধরা পড়লেন লিটন। অফস্টাম্পের বাইরের বল টেনে শট খেলায় বাড়তি জোর পাননি। ফাইন লেগে দারুণ ক্যাচ নেন হাসান আলী। বোলিং এসে দ্বিতীয় বলে উইকেট পেলেন আফ্রিদি। লিটন ফিরলেন ১১ রান করে। 

দুইশ ছাড়িয়ে বাংলাদেশের লিড

দ্রুত রান তুলছে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ত্রিশ মিনিটেই বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়িয়ে গেছে। শুরুতে মুশফিকুর রহিমের উইকেট হারালেও বিচলিত নয় স্বাগতিকরা। লিটন ও নাজমুল দলের হাল বেশ ভালোভাবে ধরেছেন। এখন কেবল এগিয়ে যাওয়ার পালা। 

মুশফিকুর ফিরলেন দিনের শুরুতেই

দিনের প্রথম বলে হাসান আলীকে চার মেরে খেলা শুরু করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকুরের ওই শটে বাংলাদেশের খেলার মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে যায় সহজেই। কিন্তু ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুশফিকুর।

হাসান আলীর পরের ওভারে শান মাসুদের হাতে ক্যাচ দেন ২২ রান করা মুশফিকুর। বোলারের মাথার ওপর দিয়ে শট খেলেছিলেন। কিন্তু মিড অফে তালুবন্দি হন তিনি। বাংলাদেশ হারাল চতুর্থ উইকেট। নতুন ব্যাটসম্যান লিটন দাস। 

কোন পথে ঢাকা টেস্ট?

বাংলাদেশ নাকি পাকিস্তান, ঢাকা টেস্টের শেষ হাসি হাসবে কোন দল? নাকি দুই দলকে অপেক্ষায় রেখে শেষ রোমাঞ্চ এলোমেলো করে দেবে বেরসিক বৃষ্টি।

তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের খেলা বৃষ্টিতে বিঘ্ন হওয়ায় এখনও ম্যাচ কার পক্ষে বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আজ শেষ দিনের লড়াইয়ে অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চ। 

বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১৫২ রানে দিন শুরু করবে। লিড ১৭৯ রানের। এখনও অন্তত এক সেশন ব্যাটিং করতে চায় বাংলাদেশ। এরপর পাকিস্তানকে অলআউট করতে দুই সেশন পাবে স্বাগতিকরা। এজন্য প্রথম সেশনে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে যত বেশি রান করা যায় করতে হবে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন, ৭০-৭৫ ওভার বোলিং করতে পারলে বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। তার মত, ‘‘এখনও ঠিক করিনি কত রান করে ইনিংস ঘোষণা করবো। তবে আমরা অবশ্যই জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলছি। আমাদের স্পিন ও পেস আক্রমণ ভালো। যদি কাল ৭০-৭৫ ওভার বল করতে পারি, তাহলে জয়ের সম্ভাবনা থাকবে। আমার মনে হয়, ২৬০ রানের মতো টার্গেট দিতে পারলে ম্যাচ জেতা সম্ভব।’’

তবে বাংলাদেশ জয়ের জন্য খেলবে বিশ্বাস হয় না পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান সালমান আগার, ‘‘“আমরা অবশ্যই জয়ের জন্যই খেলব। যদি ওরা যথেষ্ট সাহসী হয়, আমাদেরকে ৭০ ওভারে ২৬০ রান দিক, আমরা অবশ্যই তা তাড়া করতে নামব। তবে আমার মনে হয় না ওরা সেটা করবে।”

কোন পথে যাবে আজকের দিন? কে হাসবে শেষ হাসি?