খেলাধুলা

নাহিদকে কেন খেলত পারল না পাকিস্তান, জানালেন অধিনায়ক শান মাসুদ

১১ রানে শেষ ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের। নিজের ছোট এক স্পেলেই স্রেফ এলোমেলো করে দিয়েছেন নাহিদ রানা। ৫টির ৪টি উইকেটই নিয়েছেন নাহিদ। বাংলাদেশের দেওয়া ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১৬৩ রানে। ১০৪ রানের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। প্রথমবার বাংলাদেশ ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারায়।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করে নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচ জয়ের নায়ক। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সাফল্যের রূপকার নাহিদ। ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নাহিদ আগুন ঝরিয়েছেন। শান মাসুদকে দিয়ে তার উইকেট নেওয়া শুরু। এরপর সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নোমান আলী ও সবশেষ শাহীন শাহ আফ্রিদির উইকেট নিয়ে ফাইফারের স্বাদ পান।

নাহিদকে কেন খেলতে পারল না বাংলাদেশ? ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ সেই উত্তর দিয়েছেন-

লাঞ্চের ঠিক আগে যখন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলো, তখন আপনাদের মানসিকতা কী ছিল? শান মাসুদ: মানসিকতা খুব পরিষ্কার ছিল। আমরা ঠিক করেছিলাম সেখানে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে ব্যাট করব। উইকেটটা ভালোই মনে হচ্ছিল। কিছুটা স্পিন ছিল রাফ থেকে, আর আমরা ব্যাটসম্যানদের বলেছিলাম যে একটি দল হিসেবে আমরা ব্যাট করব, দেখি টি-ব্রেকের সময় আমরা কোথায় আছি, তারপর সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেব।

কোথায় ভুল হলো? শান মাসুদ: আমার মনে হয় টি-ব্রেকের সময় আমরা ভালো অবস্থায় ছিলাম, কিন্তু টি-ব্রেকের পর আমরা কিছু উইকেট হারাই। গেম সেন্সের দিক থেকে বললে, আমি মনে করি ওই সময় কিছু ব্যাটসম্যান বুঝতে পারত যে আমরা লক্ষ্যের খুব দূরে নই এবং আমাদের খেলায় টিকে থাকা বেশি ভালো ছিল। আমরা ভুল সময়ে উইকেট হারিয়েছি, এবং আমরা আরও ভালো ক্রিকেটিং সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম।

এক পর্যায়ে স্কোর ছিল ১৫২/৫, কিন্তু তারপর ১৬৩ হয়ে গেল। নাহিদ রানাকে নিয়ে কী বলবেন? শান মাসুদ: তার মান অবশ্যই আছে, এবং সে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ভালো বল করেছে। আমাদের জন্য হতাশার বিষয় হলো, ওই সময় আমরা এমন অবস্থায় ছিলাম যেখানে আমরা ভেবেছিলাম দুইজন সেট ব্যাটসম্যান আরও কিছুক্ষণ খেলতে পারলে ম্যাচটা হয়তো ড্রয়ের দিকে যেতে পারত।

বাংলাদেশ দুই উইকেট হারানোর পর পার্টনারশিপ গড়ে তোলে। এটা কি টার্নিং পয়েন্ট ছিল? শান মাসুদ: ১০০%। শেষ পর্যন্ত এটা টিম এফোর্ট, তাই আমি কখনো বলি না শুধু ব্যাটিং বা বোলিং ভুল হয়েছে। তবে বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা মনে করি প্রথম ঘণ্টায় আমরা ভালো বল করে দুটি উইকেট নিয়েছিলাম। আপনি চান মিডল অর্ডারকে কঠিন বলের সামনে ফেলতে, যখন বোলাররা নিয়ন্ত্রণে থাকে। শান্ত ও মুমিনুলকে কৃতিত্ব দিতে হবে, কিন্তু বোলিং ইউনিট হিসেবে আমরা মনে করি সেখানেই আমরা ম্যাচটা হাতছাড়া করেছি।

নাহিদ রানাকে খেলতে ব্যাটসম্যানদের মনে কী চলে? কোনো বিশেষ পরিকল্পনা ছিল কি?  শান মাসুদ: ব্যাটসম্যান হিসেবে আপনাকে বলের দিকে মনোযোগ দিতে হয় এবং নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী খেলতে হয়। আমরা প্রতিপক্ষকে সম্মান করি, বিশ্ব টেস্ট ক্রিকেটে আমরা ভালো বোলারদের মুখোমুখি হই। আমাদের সবসময় বল দেখা এবং পরিস্থিতি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ভালো স্পেল করলে সেটা টিকে খেলতে হয়, আর সুযোগ পেলে রান করতে হয়।

পাকিস্তান টেস্ট দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, কিন্তু নতুনরা প্রতিরোধ দেখিয়েছে। এটা কি চোখ খোলার মতো? নতুনদের দিকে যাওয়া উচিত কি?  শান মাসুদ: স্বাভাবিকভাবে হারলে আবেগ বেশি থাকে, কিন্তু আমাদের বাস্তবভাবে দেখতে হবে। দল সবসময় অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশ্রণ। আমরা অতীতে দেখেছি, পুরো তরুণ দল দিলে ফলাফল ভিন্ন হয়। আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং দায়িত্ব নিতে হবে। দুই ইনিংসেই কিছু মুহূর্ত ছিল যেখানে টেস্ট ক্রিকেট ক্ষমা করে না। আপনি যদি নিখুঁত না খেলেন বা পরিস্থিতি অনুযায়ী না খেলেন, আপনি হারবেন। আমাদের সবকিছু দেখতে হবে, শট সিলেকশন, ফিল্ডিংয়ের মুহূর্ত। সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।

আপনি ১৫ টেস্টে ১১ হেরেছেন, চাপ আছে? বড় সিদ্ধান্ত কী হবে? শান মাসুদ: আমি সেই পরিসংখ্যান মেনে নিচ্ছি। আমি কখনো দোষ চাপাই না, আমি নিজেই দায়িত্ব নিই। আমার লক্ষ্য সবসময় দেখি আমরা কী ভালো করছি এবং কীভাবে উন্নতি করতে পারি। সেটা দল নির্বাচন হোক বা আমার ব্যাটিং পজিশন, আমার উদ্দেশ্য পাকিস্তান দলকে উন্নত করা। টেস্ট ক্রিকেটে আপনাকে সেরা খেলতে হয়, কোনো সুযোগ কম থাকে না।