ফুটবলে বয়স অনেক সময় শুধু একটি সংখ্যা। শরীর ক্লান্ত হতে পারে, গতি কমে যেতে পারে, কিন্তু স্বপ্ন যদি বেঁচে থাকে, তাহলে একজন ফুটবলার আবারও ফিরে আসতে পারেন সবচেয়ে বড় মঞ্চে। ঠিক তেমনই এক অনন্য গল্প লিখতে যাচ্ছেন সেবাস্তিয়ান সোরিয়া।
৪২ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড জায়গা পেয়েছেন কাতারের প্রাথমিক বিশ্বকাপ দলে। আর চূড়ান্ত দলে সুযোগ পেলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড গড়বেন তিনি।
সম্প্রতি কাতারের কোচ হুলেন লোপেতেগি ৩৪ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন। সেখানেই রাখা হয়েছে উরুগুয়েতে জন্ম নেওয়া সোরিয়াকে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই দল কমিয়ে ২৬ জনে নামিয়ে আনা হবে।
যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে পারেন সোরিয়া, তাহলে ভেঙে যাবে রজার মিলার দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের জার্সিতে শেষবার খেলেছিলেন মিলা। তখন তার বয়সও ছিল ৪২ বছর। সেই রেকর্ডই এখন হুমকির মুখে।
অবশ্য বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের রেকর্ড এখনও গোলরক্ষক এসাম এল হাদারির দখলে। ২০১৮ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলতে নামার সময় তার বয়স ছিল ৪৫ বছর ১৬১ দিন।
এদিকে স্কটল্যান্ডের ৪৩ বছর বয়সী গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনও এবার বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনায় আছেন, যদি সময়মতো চোট কাটিয়ে ফিরতে পারেন।
সোরিয়ার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রায় শেষ বলেই মনে করা হচ্ছিল। ২০১৭ সালের পর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলে ছিলেন না তিনি। এমনকি ২০২২ বিশ্বকাপেও স্বাগতিক কাতারের দলে জায়গা হয়নি তার।
তবে গত বছরের অক্টোবরে আবারও জাতীয় দলে ডাক পান এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে কাতারের ২-১ গোলের জয়ে ভূমিকা রাখেন তিনি।
ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তাও দেন সোরিয়া। তিনি লেখেন, আবারও আল আনাবি জার্সি গায়ে চাপাতে পেরে এবং এই সুন্দর দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি গর্বিত।
২০০৪ সালে কাতারের লিগে খেলতে আসেন সোরিয়া। এরপর ২০০৭ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। দীর্ঘ পথচলার পর এখন তিনি দাঁড়িয়ে আছেন আরেকটি ইতিহাসের দরজায়।
আগামী ১৩ জুন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কাতার। এরপর কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষেও খেলবে তারা। আর সেই দলে সোরিয়া থাকলে, বিশ্ব ফুটবল দেখতে পারে বয়সকে হার মানানো আরেকটি অনুপ্রেরণার গল্প।