অধিনায়ক চাইলে কতো কিছু করতে পারেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ঢাকায় পাকিস্তানকে হারানোর পর সবটাই করে দেখালেন। উল্লাসে, উদযাপনে দলের সঙ্গে মেতে থাকলেন আনন্দচিত্তে। প্রেজেন্টেশনে গেলেন। সংবাদ সম্মেলনে এসে ২৩ মিনিট একের পর এক প্রশ্ন সামলেছেন। যেখানে ছিল কেবল নিজেদের ক্রিকেট এগিয়ে যাওয়ার পেছনের গল্পগুলো জানানো। এরপর কতশত ছবি তোলার আবদার মেটানো। অটোগ্রাফও চলে টুকটাক। এরপর সবশেষে শান্তির জায়গায় ড্রেসিংরুম।
মাহমুদউল্লাহ একবার বলেছিলেন, যে কোনো ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম ছেড়ে বেরিয়ে আসতে ভালো লাগে না। তার ব্যাখ্যা ছিল, ওই ড্রেসিংরুমটাই হয়ে উঠে পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দের জায়গা। আর হারলে, ‘ভাগ মিলকা ভাগ।’
গতকাল বাংলাদেশ ম্যাচ শেষে ঘণ্টা খানেকেরও বেশি সময় ড্রেসিংরুমে কাটিয়েছে। হোটেল ছেড়ে ক্রিকেটাররা বাসায় গিয়েছেন। আজ আবার সিলেট যাত্রা। ঘন্টাখানেক কী করলেন ক্রিকেটাররা? জানা গেছে, ম্যাচ নিয়ে তেমন চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ হয়নি। কোচ, অধিনায়ক নিজেদের মতো করে সবার উদ্দেশ্যে কথা বলেছেন।
প্রথমবার জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করা ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান দুই ইনিংসের ফিল্ডিং পারফরম্যান্সের জন্য নিজের উদ্যোগে মেডেল দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসের জন্য নাজমুল হোসেন শান্ত এবং দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য লিটন পেয়েছেন মেডেল। প্রত্যেকেরই পয়েন্ট ছিল ৯। কোচ ফিল সিমন্স কথা বলেছেন, নিজের মতো করে ম্যাচের মূল্যায়ন করেছেন।
শেষের দায়িত্বটা ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর। উপসংহার টানার কাজটা তাকে দিয়েই করিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ৩ মিনিটের ছোট এক বক্তব্য দিয়েছেন। জয়ের ক্রেডিট পুরো দলকে দিয়েছেন। ছোট ছোট অবদানগুলোকে তুলে ধরেছেন। সামনের পথচলা কেমন হওয়া উচিত সেই দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন।
‘‘আজকের দিনটা (গতকাল) আমাদের উপভোগ করা উচিত। আমরা পাঁচদিন যেভাবে ক্রিকেট খেলেছি সেজন্য নিজেদের জন্য আজকের দিনটা উপভোগ করা উচিত। আবার কালকে থেকে সামনের টেস্ট ম্যাচের জন্য আমরা যেন ধীরে ধীরে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে থাকি। খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সামনের টেস্ট ম্যাচটা কিভাবে খেলবো, এর থেকেও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি।’’
‘‘আজকের ম্যাচটা জেতার পেছনে ব্যক্তিগতভাবে কারো ক্রেডিট নেই। পুরো দল হিসেবে খেলেছি। বিশেষ করে যে চারজন খেলেনি ওই চারজন সহ। এই ধারাবাহিকতা আমাদের দরকার। এই দলের সবচেয়ে ভালো যে দিকটা তা হলো, আমরা একজন আরেকজনকে সাপোর্ট করি। একজন আরেকজনকে সম্মান করি। একজন আরেকজনের ভালো পারফরম্যান্সে খুশি হই। খারাপ পারফরম্যান্সে কষ্ট পাই। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারাবাহিকতা আমাদের দরকার এবং লম্বা সময় ধরে যদি এই জিনিসটা করতে পারি এই টিম অনেক উপরের দিকে যাবে।’’
নিজেদের ওপর বিশ্বাসের রেণু ছড়িয়ে শান্ত আরও বলেন, ‘‘আমরাই কিন্তু করে দেখালাম। এই যে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিনটা টেস্টে জিতলাম। এর আগে কিন্তু কখনো হয়নি যে আমরা ইনিংস ডিক্লেয়ার করে ম্যাচ জিতেছি। এটা কিন্তু নতুন অভিজ্ঞতা। এবং আমি মনে করি এটা ভবিষ্যতে কাজে দেবে। এভাবেও ম্যাচ জেতা যায়। আমাদের ওই সামর্থ্য আছে। এই বিশ্বাসটা যেন আমরা সবাই রাখি। ওই কষ্ট করার মন মানসিকতা যেন সবার থাকে। সবাই মিলে খুব ভালো খেলেছি। ওয়েলডান। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা। একেকটা টেস্ট ম্যাচ খুর গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হোমে যেগুলো আমরা খেলবো।’’
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের কথাও আলাদা করে বলেন নাজমুল, ‘‘মুশফিকুর রহিম ভাই সবসময় আমাদের পেছনে লেগে থাকেন। একটু অ্যাফোর্ট দে, আরেকটু চেষ্টা করি। আরেকটু চেষ্টা করি।’’
ঢাকা টেস্টে ভুলে যাওয়ার মতোই পারফর্ম করেছেন দুই ওপেনার সাদমান ও মাহমুদুল। দল তাদেরকে কতটা ধারণা করছে, পাশে আছে তা বোঝা গেল শান্তর কথায়, ‘‘ওপেনাররা যতটুকু ব্যাটিং করেছে ততটুকু দলকে সাহায্য করেছে। প্রথম ইনিংসে কন্ডিশন চ্যালেঞ্জ ছিল, দ্বিতীয় ইনিংসেও তাই। যে কয়টা বল, হয়তো ২০টা বল-২০টা বল করে খেলছি, ওইটাই দলকে সাহায্য করেছে। নেতিবাচক চিন্তা যেন না করি যে আমি কিছুই করি নাই। ওই ৪০টা বল কিন্তু পরের ব্যাটস্যানকে সাহায্য করেছে। দায়িত্ব হচ্ছে কিভাবে ওই ৪০ বলকে ১৪০ বলে নিয়ে যেতে পারি। ঠিক আছে? ওয়েল ডান।’’
শান্তর দাবি ৫-১০ শতাংশ প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের খেলায় উন্নতি করতে পারলে এই দলটা চলে যাবে আরো উপরে। কোথায় উন্নতি করতে হবে, কিভাবে উন্নতি করতে হবে সেটা সেই খেলোয়াড় খুব ভালো করেই জানেন। এজন্য বাড়তি পরিশ্রম, সময় দেওয়ার কথা বলেছেন অধিনায়ক।