সময় যেন থমকে গেছে মানুয়েল নয়্যারের জন্য। বয়স ৪০ ছুঁয়েছে, ক্যারিয়ারে জিতেছেন প্রায় সব বড় শিরোপা, তবুও ফুটবলের প্রতি ক্ষুধা এখনও অটুট। সেই প্রমাণই আবার দিল বায়ার্ন মিউনিখ। ক্লাবটির কিংবদন্তি গোলরক্ষকের সঙ্গে আরও ১ বছরের নতুন চুক্তি করেছে জার্মান জায়ান্টরা।
শুক্রবার নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বায়ার্ন অধিনায়ক নয়্যার। এর ফলে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ক্লাবটিতে থাকবেন তিনি। একই দিনে নতুন চুক্তি নবায়ন করেছেন আরেক গোলরক্ষক সভেন উলরাইখও।
আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি মৌসুমের পর। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ চিন্তার পর শেষ পর্যন্ত বায়ার্নেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নয়্যার।
ক্লাবের ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি ভীষণ আনন্দিত। সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নিয়েছি, কারণ এটি আমার জন্য এবং ক্লাবের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন আমি নিশ্চিত, এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।”
২০১১ সালে শালকে থেকে বায়ার্নে যোগ দেন নয়্যার। এরপর ১৫ বছরে ক্লাবটির হয়ে খেলেছেন ৫৯৭ ম্যাচ। জিতেছেন ২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা।
শনিবার কোলনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে বুন্দেসলিগার ট্রফি হাতে তোলার কথা রয়েছে নয়্যারের। এটি হবে তার ১৫ মৌসুমে ১৩তম লিগ শিরোপা। তবে শেষ লিগ ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকছেন না এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি গত ৪টি বুন্দেসলিগা ম্যাচে সুযোগ দিয়েছেন তরুণ গোলরক্ষক ইয়োনাস উরবিগকে। ২২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে ভবিষ্যতের প্রথম পছন্দ হিসেবে ভাবছে বায়ার্ন। আর নয়্যারের দায়িত্বের একটি বড় অংশ হবে তাকে পরামর্শ ও সহায়তা করা।
বায়ার্নের ক্রীড়া পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল বলেন, “মানুয়েল ও সভেন ভবিষ্যতের বায়ার্ন গোলরক্ষক হিসেবে ইয়োনাসকে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জার্মানির হয়ে ১২৪ ম্যাচ খেলেছেন নয়্যার। গত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও, আসন্ন বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে জার্মানি কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গে কথাবার্তাও চলছে।
তবে এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি কোম্পানি। তিনি বলেন, জাতীয় দলের কোচকে নিজের মতো দল গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত।
তবে নয়্যার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে বায়ার্ন কোচের কণ্ঠে ছিল প্রশংসা।
কোম্পানি বলেন, “বায়ার্ন জার্মান চ্যাম্পিয়ন, আর আমাদের দলে জার্মানির সেরা গোলরক্ষক আছে। এটুকুই সব বলে দেয়।”
চোট, বয়স আর সময়ের সঙ্গে লড়াই করেও এখনও নিজের মান ধরে রেখেছেন নয়্যার। তার বিশ্বাস, তিনি এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার সামর্থ্য রাখেন। আর সেই বিশ্বাস থেকেই আরও এক বছর মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক।