ঢাকা টেস্টের ঘটনা। নাহিদ রানা তখন ব্যাটিংয়ে। বোলিংয়ে পাকিস্তানের পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি। লেজের ব্যাটসম্যান নাহিদকে ক্রিজে পেয়ে বাউন্সার দিয়ে বসলেন আফ্রিদি। বল নাহিদের হেলমেটে আঘাত করে। কোনো বিপদ তাতে হয়নি। মুচকি হেসে নাহিদ হয়তো ওই পরিস্থিতি উড়িয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু পরে যা করেছেন তা রীতিমতো ‘প্রতিশোধ’। আফ্রিদি যখন ব্যাটিংয়ে এসেছেন নাহিদ ক্রমাগত বাউন্সারে তাকে ভুগিয়েছেন। ঢাকা টেস্টের শেষ উইকেটে ব্যাটিংয়ে ছিলেন আফ্রিদি। তাকে বাউন্সারে আঘাত করে উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান। বাংলাদেশ জিতে যায় ম্যাচ। নাহিদের এই আক্রমণে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, বাউন্সার নিয়ে কোনো ছাড় দেবেন না তিনি।
রোববার সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তিনি। বাউন্সার প্রসঙ্গ উঠতেই প্রতিপক্ষের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে দেন, ‘‘বাউন্সার দিতে ভাববে কিনা জানি না (প্রতিপক্ষ) । তবে এতটুক বলতে পারি, আমাকে কেউ বাউন্সার মারলে আমি তাকে ছেড়ে কথা বলবো না, এইটা বলতে পারি।’’
সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে বল হাতে ৩ উইকেট নেন এই পেসার। বাবর আজমের উইকেটের পর লেজের দুই ব্যাটসম্যানের উইকেট নেন।
নাহিদ রানা এখন বিশ্ব ক্রিকেটের আলোচনার অন্যতম বড় নাম। শেষ দুয়েক মাসে তিন ফরম্যাটেই তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নতুন খোড়াক দিয়েছে। শুধু জাতীয় দল নয়, পাকিস্তান সুপার লিগেও নাহিদ দারুণ করেছেন। ফাইনালে দ্যুতি ছড়ানো পারফরম্যান্সে জিতেছেন শিরোপা। তার থেকে প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। আশেপাশে কথাও হচ্ছে বেশ। তবে সেসবে তার নজর নেই একটুও, ‘‘আসলে আমি আশপাশে কী কথা হচ্ছে, সেগুলো খুব একটা দেখি না বা গুরুত্ব দিই না। কারণ নিজের প্রতি অতিরিক্ত কোনো প্রত্যাশা রাখি না। আমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করে। তাই আমি সবসময় মনোযোগ দিই আমার স্কিল এবং মাঠে সেটার সঠিক এক্সিকিউশনের ওপর। আমি চেষ্টা করি টিম আমার কাছ থেকে কী চায়, আর ক্যাপ্টেন আমাকে কী পরিকল্পনা বা দায়িত্ব দিচ্ছে, সেগুলো ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছি কি না, সেটার দিকে ফোকাস রাখতে। বাইরের মানুষ আমার কাছে কতটা প্রত্যাশা করছে, সেটা নিয়ে আমি ভাবি না। কারণ নিজের ওপর অতিরিক্ত প্রত্যাশা চাপিয়ে দিলে সেটা বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই আমি চেষ্টা করি, নিজের সামর্থ্য ও দক্ষতা অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব টিমকে সাহায্য করতে।”
তবে নিজের ফিটনেস নিয়ে নাহিদ অনেক সচেতন, ‘‘আর ফিটনেসের ব্যাপারে বলতে গেলে, একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে এটা আমার দৈনন্দিন রুটিনেরই অংশ। যেহেতু আমি ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি, তাই মাঠের বাইরেও খেলাটার জন্য যেসব কাজ করা প্রয়োজন, সেগুলো আমি নিয়মিত করার চেষ্টা করি। এই জায়গায় আমি কখনো নিজেকে ফাঁকি দিই না। সবসময় চেষ্টা থাকে নিজের পরিশ্রম, ফিটনেস এবং প্রস্তুতিটাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখার। এখন পর্যন্ত সেই চেষ্টাটাই করে যাচ্ছি।”
বাড়তি পরিশ্রম, সংস্করণ ভেদে আলাদা পরিকল্পনা, পৃথক মানসিকতা সব কিছুই করছেন নাহিদ, ‘‘আসলে আমি সবসময় চেষ্টা করি বিসিবির ট্রেইনারদের সঙ্গে কথা বলে নিজের ট্রেনিং আরও কীভাবে উন্নত করা যায়, সেটা বুঝতে। পাশাপাশি ভালো ট্রেনিং, ভালো খাবার এবং ভালো ঘুম- এই তিনটি বিষয়ের ওপর আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই। আলাদা প্রস্তুতি বলতে, আমি সবসময় চেষ্টা করি অফ টাইমেও নিজেকে অ্যাক্টিভ রাখার। যখন বাসায় থাকি, তখনও অ্যাক্টিভ রেস্টের মধ্যে থাকার চেষ্টা করি। কিছু ছোটখাটো অতিরিক্ত বিষয় থাকে, তবে মূল কাজগুলো প্রায় একই থাকে।”