খেলাধুলা

৮, ৫ ও শূন‌্যর পর যেভাবে জয়ের ১০ চারের ৫২

রান তো আসছিলই না বরং যেভাবে আউট হচ্ছিলেন তা ছিল রীতিমত দৃষ্টিকটু। মাঠে নামা মানেই নিশ্চিত উইকেট হারানোর একটি ছবি এঁকে দিচ্ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকায় দুই ইনিংসে রান করেছিলেন যথাক্রমে ৮ ও ৫। সিলেটে নেমে খুলতে পারেননি খাতা। ছোট্ট ক‌্যারিয়ারের অষ্টম ডাকের সাক্ষী হতে হয়।

পায়ের ওপরের বলে এলডব্লিউ হচ্ছিলেন। সুইং গতিতে পরাস্ত হয়ে ক‌্যাচ দিচ্ছিলেন উইকেটের পেছনে। সেই সব পেছনে ফেলে সিলেটে দ্বিতীয় ইনিংসে জয় চেনা রূপে দেখা দিলেন। হ‌্যাঁ, বড় কিছু করেননি। তবে যেভাবে খেলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় রান করেছেন নিজেকে যেভাবে মেলে ধরেছেন তাতে সামনে ভালো কিছুর আশা করাই যায়।

প্রতি আক্রমণে গিয়ে রান করেছেন। পাকিস্তানের তিন পেসার খুররাম শেহজাদ, হাসান আলী ও মোহাম্মদ আব্বাসের বল ভয় না পেয়ে দৃঢ়চেতা মনোভাবে মোকাবেলা করেছেন। আগ্রাসী ব‌্যাটিংয়ে সফলতা পেয়েছেন তা বোঝা যায় বাউন্ডারির ফোয়ারাতেই। ৫২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। অথচ এই রান করতে গিয়ে ১০টিই চার মেরেছেন।

আত্মবিশ্বাসী সেই ইনিংসের পেছনের কথা জানাতে গিয়ে জয় তৃতীয় দিনের সকালে প্রোডাকশনে বলেছেন, ‘‘গত কয়েকটি ইনিংসে একটু নড়বড়ে ছিলাম। এজন্য চেষ্টা করেছি এবার আমার সহজাত ব্যাটিং করতে। গত সিরিজে এখানে বড় স্কোর গড়েছি। সেই স্মৃতি মনে করেছি আমি এবং আগের কিছু দেখেছি, যখন কিছুটা আগ্রাসী ছিলাম। সেটিই বয়ে আর চেষ্টা করেছি এখানে শেষ ইনিংসে।”

সিলেটে আগের টেস্টেই জয় আয়ারল‌্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রান করেছিলেন। সেই ইনিংস থেকে প্রেরণা নিয়েই ঝলমলে ব‌্যাটিং করেছেন। পাশাপাশি উইকেটকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন, ‘‘গতকাল বেশ ভালো ছিল (উইকেট)। রোদ উঠেছিল, বল বেশ ভালোভাবে ব্যাটে এসেছে। এজন্য চেষ্টা করেছি ওসব শট খেলতে।” জয়ের শুরুর ওই আক্রমণে তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারানোর ব‌্যর্থতা ভুলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। তার গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে এখন লিটন, মুশফিকুররা ভালো করছেন। টেস্ট ক্রিকেটে ছোট এসব অবদানই দলকে সাফল‌্যের শিখরে নিয়ে যায়।