সেঞ্চুরিতে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক পাশাপাশি অবস্থানে ছিলেন গত নভেম্বর থেকে। মুশফিকুর নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি তুলেছিলেন। এরপর দুজন ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে পাশাপাশি বসে ছিলেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটে সেঞ্চুরি তুলে মুশফিকুর লিড নিলেন। ১৭৮ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ধ্রুপদী ইনিংস খেলেছেন। শুধু নিজের রানই বাড়াননি, দায়িত্ববোধের বিরাট নৈপূণ্য দেখিয়েছেন। তাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টে আরামজনক অবস্থানে।
মুশফিকুরের শেষ সেঞ্চুরি ও আজকের সেঞ্চুরিতে অদ্ভুত মিল খুঁজে বের করা যেতে পারে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি তোলার পথে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছিলেন মুশফিকুর। পরের দিন পৌঁছান গন্তব্যে। আজ ৯০ রানে অপরাজিত থেকে গিয়েছিলেন চা-বিরতিতে। পরে ফিরে এসে করেন সেঞ্চুরি।
শেষ সেঞ্চুরির দিন, ৯৯ রানে থাকা মুশফিকুরের এলবিডব্লিউর জোরাল আবেদন করেছিল আয়ারল্যান্ড। আম্পায়ার সাড়া দেননি। আজ ৯১ রানেও এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিল পাকিস্তান। আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় শান মাসুদ রিভিউ নেন। যদিও সফল হননি। পরে মুশফিকুর ডাউন দ্য উইকেটে এসে একটি বাউন্ডারিতে কড়া জবাব দেন এবং ৯৯ রান থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান আরেকটি আত্মবিশ্বাসী বাউন্ডারিতে।
অজুত-নিযুত ঘামবিন্দু ঝরিয়ে পাওয়া এই সেঞ্চুরিতে মুমিনুলকে ছাড়িয়ে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ সেঞ্চুরির রেকর্ড তারই দখলে। আর এই মাইলফলকে পৌঁছে সিলেটের নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামে সেঞ্চুরির অপেক্ষাও দূর হলো তার। এর আগে সিলেটে আট ইনিংস খেললেও কোনো সেঞ্চুরি ছিল না।
সেঞ্চুরির পর খ্যাপাটে উদযাপনও করেছেন। আগে সেঞ্চুরির পর তাকে ব্যাট ছুঁড়তে দেখা যায়নি। আজ বল সীমানা পার হওয়ার আগেই গগণবিদারী চিৎকারে গর্জে উঠে। প্রথমে ব্যাট ছুঁড়ে মারে গ্রাউন্ডে। এরপর হেলমেট। তারপর গ্লাভস। এরপর ব্যাটটা মাটি থেকে উঠিয়ে দুই হাত ধরে উচিঁয়ে ধরে। অনেকটাই ক্রিস গেইলের উদযাপনের মতো। এরপর দুই হাত উপরে তুলে সৃষ্টিকর্তাকে চুমু ছুড়ে দেন। সিজদাহতে করেন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন।
এরপর আবার ‘ব্যাক টু ওয়ার্ক।’
দিনের শুরু থেকে মাঠে মুশফিকুর। প্রথমে নাজমুল হোসেন শান্ত, এরপর লিটন, মিরাজ ও তাইজুলের সঙ্গে জুটি বেঁধে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান। শান্তর সঙ্গে জুটি ছিল ৫ রানের। লিটনের সঙ্গে ১২৩ রানের। মিরাজের সঙ্গে ৩৪। প্রতিষ্ঠিত শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে মিরাজ আউট হওয়ার পর তাইজুলকে নিয়ে তার নতুন লড়াই শুরু হয়। যেখানে তাইজুল বিরাট ভূমিকা রেখেছেন।
দুজনের ১১৬ বলে ৬৯ রানের জুটিতে মুশফিকুরের অবদান এখন পর্যন্ত ৬৯ রান। ৪৬ বল খেলে তাইজুল যোগ করছেন ২১। তাইজুলের এই সঙ্গই মুশফিকুরকে নিয়ে গেছে সেঞ্চুরির চূঁড়ায়। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে নিরাপদ অবস্থানে।