বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে নিজেকে প্রমাণ করার শেষ সুযোগ ছিল এটি। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় চলে এলো এক অদ্ভুত প্রশাসনিক ভুল। বদলির বোর্ডে ভুল নম্বর দেখানোর কারণে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নেইমার।
রোববার ব্রাজিলিয়ান লিগে সন্তোসের হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে খেলছিলেন ব্রাজিল তারকা। তবে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ঘটে যায় অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। ডান পায়ের কাফে চিকিৎসা নেওয়ার সময় হঠাৎ করেই চতুর্থ কর্মকর্তা বদলির বোর্ডে ১০ নম্বর জার্সিধারী নেইমারের নম্বর দেখান। সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে নেমে পড়েন বদলি খেলোয়াড় রবিনহো জুনিয়র। অথচ বদলি হওয়ার কথা ছিল ৩১ নম্বর জার্সিধারী ডিফেন্ডার গনসালো এসকোবারের।
ঘটনাটি বুঝতে পেরে বিস্মিত হয়ে যান নেইমার নিজেও। পরে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি জানতাম রবিনহো নামবে। কিন্তু আমি বোর্ডের দিকে তাকাইনি। আমি বুঝতেই পারিনি আমাকে বদলি করা হয়েছে। এটা কর্মকর্তাদের খুব বড় ভুল।”
ম্যাচ চলাকালে নেইমার ও সন্তোস কোচ কুকা সঙ্গে সঙ্গে চতুর্থ কর্মকর্তা ও রেফারি পাওলো সেজার জানোভেল্লিকে বিষয়টি জানান। এমনকি বদলির অফিসিয়াল কাগজও সম্প্রচারমাধ্যমকে দেখান নেইমার, যেখানে স্পষ্টভাবে এসকোবারের নম্বর লেখা ছিল। তবে ততক্ষণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। বদলি মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় নেইমারকে হলুদ কার্ডও দেখান রেফারি।
অদ্ভুত এই ঘটনায় হতাশ হলেও কোচ কুকা ম্যাচ হারের দায় পুরোপুরি সেই ভুলের ওপর চাপাতে চাননি। তিনি বলেন, “এটি অবশ্যই চতুর্থ কর্মকর্তার ভুল। কিন্তু শুধুমাত্র এই কারণেই আমরা হেরেছি, এমন বলা অন্যায় হবে।”
ম্যাচটিতে ৩-০ ব্যবধানে হেরে যায় অবনমন শঙ্কায় থাকা সন্তোস। আর পুরো ম্যাচেই অনেকটা নিস্তেজ ছিলেন নেইমার।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়ার পর থেকেই ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। দীর্ঘ এক বছর ধরে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
আগামী সোমবার রিও ডি জেনিরোতে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে নেইমারের দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। বিশেষ করে দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ও তার অন্তর্ভুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে বিশ্বকাপের আগে নিজের শেষ ম্যাচে এমন অদ্ভুত বিতর্কে জড়িয়ে পড়া নিশ্চয়ই কল্পনা করেননি ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।