খেলাধুলা

৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান, ইতিহাস গড়ে জকোভিচের পাশে সিনার

রোমের লাল মাটিতে অবশেষে ফিরে এলো ইতালির বহুদিনের স্বপ্ন। অর্ধশতকের অপেক্ষা শেষে নিজেদের ঘরের টুর্নামেন্টে পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়ন পেল ইতালি। আর সেই ইতিহাস লিখলেন বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা ইয়ানিক সিনার।

রোববার ইতালিয়ান ওপেনের ফাইনালে নরওয়ের  ক্যাসপার রুডকে ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে শিরোপা জেতেন সিনার। এর মধ্য দিয়ে ১৯৭৬ সালের পর প্রথম ইতালিয়ান পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই টুর্নামেন্ট জয়ের কীর্তি গড়লেন তিনি। সবশেষ এই শিরোপা জিতেছিলেন আদ্রিয়ানো পানাত্তা।

তবে শুধু শিরোপাই নয়, এই জয়ে আরেকটি বিরল মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন সিনার। নোভাক জকোভিচের পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারে সব ৯টি এটিপি মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি।

ফাইনালের পর আবেগঘন কণ্ঠে সিনার বলেন, “এই মাইলফলক পূরণ করার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারে না। একজন ইতালিয়ানের জন্য এটি সবচেয়ে বিশেষ জায়গাগুলোর একটি। ক্যারিয়ারে অন্তত একবার এখানে জিততে পারা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার।”

২৪ বছর বয়সী সিনার এখন ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। অন্যদিকে তার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লোস আলকারাজ চোটের কারণে ছিটকে আছেন। ফলে বর্তমানে পুরুষ টেনিসে সিনারের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইনস্টাগ্রামে অভিনন্দন জানিয়ে জকোভিচ লেখেন, “স্বাগতম এই বিশেষ ক্লাবে, ইয়ানিক।”

এই জয়ের মাধ্যমে টানা ২৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকলেন সিনার। চলতি মৌসুমে ক্লে কোর্টে তার রেকর্ড এখন ১৭-০। আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে এটি তার জন্য বিশাল আত্মবিশ্বাসের বার্তা।

চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট জয়ের পরও নিজের স্বভাবসুলভ শান্ত উদযাপনই করেন সিনার। কোর্টে হাত উঁচু করে স্বস্তির হাসি দেন, তারপর দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। সামনের সারিতেই বসে ছিলেন ১৯৭৬ সালের চ্যাম্পিয়ন পানাত্তা।

সিনার তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আদ্রিয়ানো, ৫০ বছর পর আমরা আবার এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।”

ফোরো ইতালিকোর ১০ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল কোর্টে ছিল ফুটবল ম্যাচের মতো পরিবেশ। কমলা রঙের পোশাকে ভরা গ্যালারিতে বারবার ধ্বনিত হচ্ছিল “ওলে, ওলে… সিনার, সিনার।”

ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লাও উপস্থিত ছিলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে।

ফাইনালে রুড শুরুতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তবে দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসেন সিনার। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ড্রপ শট ও নিখুঁত ব্যাকহ্যান্ডে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন তিনি। ক্যারিয়ারে রুডের বিপক্ষে এটি ছিল সিনারের টানা পঞ্চম জয়।

পুরস্কার বিতরণীতে রুড বলেন, “তুমি এ বছর যা করছ, সেটি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তোমার খেলা দেখা সম্মানের।”

একই দিনে ইতালির জন্য আরও সুখবর এনে দেন সিমোনে বোলেল্লি ও আন্দ্রেয়া ভাভাসোরি। ১৯৬০ সালের পর প্রথম ইতালিয়ান জুটি হিসেবে রোমে পুরুষ দ্বৈতের শিরোপা জেতেন তারা।