মাঠে মোহাম্মদ রিজওয়ানের হুটহাট পড়ে যাওয়ার দৃশ্য অনেকের কাছেই চেনা। কখনো হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে তো কখনো পিঠে ব্যথা অনুভব করেন রিজওয়ান। বারবার তার এই চোটে পড়ার কারণে খেলার আকর্ষণ তো নষ্ট হয়-ই, সঙ্গে সময়ও নষ্ট হয়। এতে প্রতিপক্ষ দলগুলোর ছন্দও অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। সিলেটে এমন কিছুই রিজওয়ান বারবার করছিলেন। ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ম্যাচটা হারের পথেই আছে। রিজওয়ান ৭৫ রানের ইনিংস খেলে লড়াই করছেন একা। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি একাই নটআউট।
কিন্তু মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের খেলার শেষ প্রান্তে যা করেছেন তাতে বিরক্ত বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। বারবার সময় ক্ষেপণ করায় রিজওয়ানকে এক পর্যায়ে চেপে ধরেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। বিশেষ করে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত ক্লোজ ফিল্ডিংয়ের সময় চেপে ধরেন রিজওয়ানকে। ৭২তম ওভারে পাকিস্তান এই ব্যাটসম্যান প্রথমে সাইড স্ক্রিন নিয়ে আপত্তি করেন। সেখানে কেউ না থাকলেও বারবার আম্পায়ারদের দিকে ইশারা করতে থাকেন। লিটন মেজাজ হারিয়ে তাকে বলেন, ‘‘কি হলো? বারবার আমাদের বিরক্ত করছো? কি হয়েছে ওখানে?’’
রিজওয়ান উত্তর দেয়, ‘‘ওখানে মনে হচ্ছে কিছু আছে। ওই যে উপরে। কিছু আছে। দেখ না।’’ লিটন পাল্টা বলেন, ‘‘ওখানে আপনি কি দেখছেন। নিজের ব্যাটিংটা দেখুন না।’’ রিজওয়ান এরপর বলেন, ‘‘তাতে তোমার কী। আমি আমার কাজটাই করছি।’’ রিজওয়ান এরপর আম্পায়ারের কাছে ছুটে গিয়ে বলেন, ‘‘কি হলো। আমার সমস্যা হচ্ছে বলতে পারবো না।’’ লিটন থেমে থাকেন না, ‘‘বারবার প্রতিটি বলে বিরক্ত করছে। ছন্দ নষ্ট করছে।’’
এক পর্যায়ে দুজনের কথা কাটাকাটি থামিয়ে খেলায় মনোযোগ দেন। কিন্তু তাইজুলের ওই ওভারের পর লিটন ও শান্ত রিজওয়ানকে কথার চাপে পিস্ট করে দেন। ওভারের ফাঁকে লিটন রিজওয়ানকে উদ্দশ্য করে বলেন, ‘‘কিছু রান করেছে তো, ওর অভিনয় শুরু হয়ে যাবে।’’ শান্ত পাশ থেকে বলেন, ‘‘খুব বেশি অ্যাকটিং হচ্ছে। খুব বেশি।’’ লিটন আবার বলেন, ‘‘চলো, চলো। ওখানে (পাকিস্তান) ও জায়গা পাবে না।’’ লিটন আরো বলেন, ‘‘এখান থেকে গিয়ে ট্রেনিং করবে। ভালো অ্যাকটিং পারে।’’ শান্তও থেমে থাকেন না, ‘‘ওভার অ্যাকটিংয়ের জন্য এবার আমরা ওদের জরিমানা করবো। ৫০ শতাংশ করে কাটবো।’’ ফিনিশিং দেন লিটন, ‘‘ভালো অভিনয় হচ্ছে। সবাইকে শিখাচ্ছে সবাই জানে। এখন দলে জায়গা নড়বড়ে। তাই অনেক কিছু করতে হচ্ছে।”
মূলত সময় ক্ষেপণ করতে এবং খেলাটা পঞ্চম দিনে নিয়ে যেতেই রিজওয়ান বারবার খেলা থামিয়ে দিচ্ছিলেন। কখনো ড্রেসিংরুম থেকে এটা-ওটা আনানো, ফিজিওকে দিয়ে মেসেজ করা, পায়ের টান ঠিক করার কাজগুলো করছিলেন।
আগামীকাল পাকিস্তানের জয়ের জন্য ১২১ এবং বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ রান। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে পেস শন টেইট বলেছেন, ‘‘পুরো দিনটাই খেলা হলো। মানে, শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের জন্য দিনটা বেশ ভালোই ছিল বলে মনে করি। দুই দলই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তারা খুব ভালো ব্যাট করেছে। উইকেটটাও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। তবে আমাদের ছেলেরা লড়াইয়ে ছিল, প্রতিযোগিতায় ছিল। একটা সময় তারা আমাদের ওপর আধিপত্য করেছে। কিন্তু দিনের শেষে ওই দুই উইকেট নিতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই ড্রেসিংরুমে আমরা মোটামুটি খুশিই ছিলাম।’’
বাংলাদেশ ৭ উইকেট তুলে ম্যাচ জয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আগামীকাল সকালে প্রত্যাশিত সাফল্য পেলে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ। শেষ দিনের খেলা নিয়ে টেইট বলেছেন, ‘‘আমার মনে হয় আমরা ওদের অলআউট করব। আমি আশা করি আমরা পারব।’’
শেষ ঘণ্টার খেলা নিয়ে ডাগআউটে উত্তেজনা ছড়ালেও টেইট ছেলেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, ‘‘কিছুটা উত্তেজনা ছিল। ওই রানআউটটা খুব কাছাকাছি ছিল। আমরা ভেবেছিলাম ওটাই হয়তো দরকারি ব্রেক থ্রু। পরে তাইজুল এসে সেটা এনে দেয়। উত্তেজনা ছিল ঠিকই। আমি ব্যক্তিগতভাবে টেনশনে ছিলাম না, তবে আশপাশে কেউ কেউ হয়তো ছিল।’’