বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন দেশের মাটিতে আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। সাদা বল থেকে টেস্ট, সব ফরম্যাটেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বোলাররা। ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা, দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় লড়াই ধরে রাখার মানসিকতা, সবকিছুতেই দেখা যাচ্ছে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশকে।
পেস বোলিং কোচ শন টেইটও সেটাই মনে করেন। তার মতে, বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে নতুন কেউ সুযোগ পেলেও দ্রুত মানিয়ে নিয়ে পারফর্ম করতে পারছে। দেশের মাটিতে এই সাফল্য তাই কেবল কয়েকজনের নয়, পুরো বোলিং সংস্কৃতির উন্নতির প্রতিফলন, ‘‘আমার মনে হয় তারা এখনও ভালোই বোলিং করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের বোলাররা দুর্দান্ত সময় পার করছে। তখন মানুষ প্রতিদিন একই রকম পারফরম্যান্স আশা করে, কিন্তু ক্রিকেট সবসময় সেভাবে চলে না। তবে আমার মনে হয় তারা যথেষ্ট ভালো বোলিং করেছে আমাদের একটা ভালো অবস্থানে রাখার জন্য। পরিস্থিতিও কঠিন ছিল। আজকে আমার কাছে মনে হয়েছে সবচেয়ে গরম দিন ছিল। উইকেটটাও আজ খুব ভালো হয়ে গিয়েছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। এগুলো অজুহাত না, শুধু বাস্তবতা। তবে এখনকার অবস্থান দেখলে আমি মনে করি আমরা ভালো জায়গাতেই আছি।’’
পুরো সিরিজে পেসারদের পারফরম্যান্স নিয়ে টেইট বলেছেন, ‘‘তারা এই মুহূর্তে খুব ভালো করছে। পুরো পেস বোলিং গ্রুপটাই ভালো অবস্থায় আছে। সাদা বলের ক্রিকেটেও আমরা খুব খুশি তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে, এরপর লাল বলের ক্রিকেটেও। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, নতুন কোনো বোলার দলে এলেই সে সঙ্গে সঙ্গে পারফর্ম করছে। সাদা বল, লাল বল, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে যাকেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সে নিজেকে প্রমাণ করেছে। এটা আমাকে খুশি করে। তবে সমস্যা হলো, সবাই প্রতিদিন একই জিনিস আশা করে। আপনারা, দর্শকরা সবাই চান প্রতিদিনই প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে। আর যদি কোনো দিন সেটা না হয়, তাহলে প্রশ্ন তো উঠবেই। এটা স্বাভাবিক।’’
তবে টেইট মনে করিয়ে দিয়েছেন, আসল পরীক্ষা এখনও বাকি। দেশের কন্ডিশনে ভালো করা এক জিনিস, কিন্তু বিদেশের মাটিতে একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে বাংলাদেশের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন সফর অপেক্ষা করছে। সেখানেই বোঝা যাবে এই দল কতটা পরিণত হয়েছে, ‘‘আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। কয়েক বছর আগে বিপিএলে থাকার সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে অনেক কথা হতো। তখন কোচিংয়ের কথাও উঠেছিল। তখনই আমার মনে হয়েছিল, আগামী পাঁচ-সাত বছর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সময় হতে যাচ্ছে। এখন আমরা সম্ভবত সেই সময়ের মাঝামাঝি অবস্থায় আছি। দলটা শক্তিশালী দেখাচ্ছে। দুই ফরম্যাটেই আমরা ম্যাচ জিতছি। তবে আসল পরীক্ষা হবে বিদেশ সফরগুলোতে। জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা- বড় বড় সিরিজ আসছে। সেগুলোই বড় পরীক্ষা। তবে এখন বাংলাদেশের মানুষদের মধ্যে একটা অনুভূতি আছে যে দল ভালো করছে। কিন্তু খুব বেশি সামনে তাকানোরও দরকার নেই। বড় পরীক্ষা সামনে, আর সেটা শুরু কাল থেকেই।’’
বাংলাদেশের বোলারদের উন্নতি হওয়ার পেছনে উইকেটের পরিবর্তনকে বড় করে দেখছেন টেইট, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে যে উইকেটগুলো হচ্ছে, আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় সেগুলো ক্রিকেটের জন্য বেশ ভালো। সাদা বলের সিরিজ হোক বা টেস্ট, আমার মনে হয় তারা ভালো কাজ করছে। অন্যরা হয়তো ভিন্নভাবে দেখে, ভিন্ন কিছু আশা করে। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এই উইকেটগুলো ভালো ক্রিকেট উপহার দিচ্ছে।’’
বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগস্টে। ২০০৩ সালের পর প্রথমবার বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট খেলবে। এই টেস্টে তাসকিন, নাহিদ, শরিফুল, ইবাদতদের জন্য হতে পারে পয়মন্ত। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা থাকলে তারা নজর কেড়ে নেবে বিশ্ব ক্রিকেটের।