২১ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ার মুশফিকুর রহিমের। খেলেছেন ১০২ টেস্ট। দুই দশকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরিবর্তন দেখেছেন খুব কাছ থেকে। পরিণত হয়েছেন নিজেও। হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক, করেছেন সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড, নামের পাশে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ম্যান অব দ্য ম্যাচ।
এতো কিছুর ভিড়ে মুশফিকুরের একটি জায়গায় ছিল শূন্যতা। টেস্ট ক্রিকেটে কখনো প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হননি তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০২তম টেস্ট খেলতে নেমে সেই অপেক্ষা ঘুচিয়েছেন মুশফিকুর। সিরিজে ২৫৩ রান করেছেন মুশফিকুর। সিলেট টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেছেন। যা ছিল এই ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। এছাড়া ঢাকায় প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৭১ রান।
সিরিজ সেরার পুরস্কার গ্রহণের পর মুশফিকুর বলেছেন, ‘‘এটা সত্যিই অনেক বড় একটি ব্যাপার। ছেলেরা এই সাফল্য পুরোপুরি প্রাপ্য। বিশেষ করে গত দুই-তিন বছর ধরে তারা যেভাবে খেলছে, টেস্ট ক্রিকেটে সেটা ছিল দারুণ। সত্যি বলতে, প্রথম ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরিটাই অসাধারণ ছিল এবং সেটাই আমাদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল। ড্রেসিংরুমের পরিবেশও তখন খুব ইতিবাচক ছিল। আমরা সবাই তার জন্যও খেলতে চেয়েছিলাম।’’
‘‘সত্যি বলতে, আমি বেঁচে আছি এবং দেশের হয়ে খেলছি, এটাই সবচেয়ে বড় প্রেরণা। দেশের হয়ে খেলতে চাইলেই সুযোগ পাওয়া যায় না। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, নিজেকে প্রমাণ করতে হয় এবং মাঠে সেই পরিশ্রমের প্রতিফলন দেখাতে হয়। আমি আমার জীবন উপভোগ করছি, আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।” – যোগ করেন তিনি।
মুশফিকুরের প্রথম সিরিজ সেরার পুরস্কারের দিনে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেন লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে ১২৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করেছেন তিনি। ৫৪ টেস্টে দ্বিতীয়বার ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেলেন। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডিতে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলে পেয়েছিলেন প্রথমটি। দুই বছর পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আসল দ্বিতীয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
লিটনের ইনিংসের প্রশংসা করে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, “লিটনের ইনিংসটা ছিল অসাধারণ। এটা সত্যিকার অর্থেই দলের জন্য খেলা এক ইনিংস। আমি বলব, এটা তার সেরা ইনিংসগুলোর একটি। অবশ্যই তাইজুল ভাই, তাসকিন, শরিফুল ও রানাকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে যেভাবে লিটন দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেছে, সেটাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে।’’
‘‘এ ধরনের পারফরম্যান্সই দেখায় যে দল বড় হওয়ার পথে এগোচ্ছে। আমি মনে করি, এই টেস্ট ম্যাচ জয়ের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব লিটনের ওই সময়কার ব্যাটিংয়েরই প্রাপ্য। কারণ, ওই ইনিংসটা না হলে আমরা প্রথম ইনিংসেই অনেক পিছিয়ে পড়তাম।”- যোগ করেন শান্ত।
লিটন পুরস্কার গ্রহণের পর বলেছেন, ‘‘সম্ভবত এটা আমার ক্যারিয়ারের সেরা সেঞ্চুরি। কারণ লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ব্যাটিং করা সহজ নয়। তখন প্রায় সব ফিল্ডারই বাইরে থাকে। প্রথম দিনের উইকেটও সহজ ছিল না, আর আউটফিল্ড ছিল ধীরগতির।”