লাবুশানের বলটা ঠিকঠাক পড়তে পেরে স্রেফ টাইমিং মেলালেন আরাফাত মিনহাস। বল হাওয়ায় ভেসে গ্যালারিতে। ওই ছক্কায় পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ১৭ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রান তুলে জয়টা সহজ করে দেন আরাফাত।
কিন্তু ব্যাটিংয়ে দাপট দেখানোর আগে ২১ বছর বয়সী অভিষিক্ত ক্রিকেটার যা করেছেন রাওয়ালপিণ্ডির ২২ গজে তা আগে পাকিস্তানের কেউ করতে পারেননি।
পাকিস্তানের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শনিবার রাওয়ালপিন্ডিতে ১০০০তম ওয়ানডে খেলে তারা। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার পর ১০০০ ওয়ানডে খেলার রেকর্ড গড়ল পাকিস্তান। অথচ এর আগের ৯৯৯ ওয়ানডেতে পাকিস্তানের কোনো অভিষিক্ত ক্রিকেটার ৫ উইকেট পাননি। আরাফাত মিনহাস ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখলেন।
পাকিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পেয়েছেন। ১০ ওভারের বোলিং স্পেলে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে এলোমেলো করে দেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডার। প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ২০০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে বাবর আজম ও গাজি ঘোরির ফিফটিতে ৪২.৩ ওভারে জয় পায় পাকিস্তান। দারুণ ব্যাটিংয়ে ফিনিশিং করেন আরাফাত।
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান আরাফাত। বাঁহাতি স্পিনারের বোলিং ঘূর্ণিতে রানের খাতা খুলতে পারেননি লাবুশানে ও ক্যামেরুন গ্রিন। এর আগে ম্যাথু শর্ট ও জস ইংলিশের উইকেট নেন। শেষ দিকে নাথান এলিসের উইকেট নিয়ে ফাইফারের স্বাদ পান।
পাকিস্তানের হয়ে অভিষেকে ৪ উইকেট আছে পাঁচজনের। কিন্তু কেউই ৫ উইকেটে দেখা পাননি। আরাফাত সেই গেরো ছুটিয়ে অনন্য অর্জনে নিজের নাম লিখালেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ব্যাট হাতে লড়াই করেন ম্যাট রেনশ। ৬১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এছাড়া শর্ট ৫৫ এবং ম্যাথু খুনেমান ২৪ রান করেন। আরাফাত বাদে ৪৪ রানে ২ উইকেট নেন আবরার আহমেদ।
লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের ওপেনার মাজ সাদাকাত (৮) শুরুতে ফিরলেও তিনে নেমে দলের হাল ধরেন বাবর। ওয়ানডে দলে ফিরে নিজের দু্যতি ছড়িয়ে দেন। ৯৪ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন।
এছাড়া গাজি ঘোরির ব্যাট থেকে আসে ৬৫ রান। তাদের তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১২৭ রানে। শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া দুয়েকটি উইকেট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিলেও স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত পুঁজি না পাওয়ায় লড়াই জমে উঠেনি।
৪৫ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে পাকিস্তান।
১০০০তম ওয়ানডে ম্যাচে এটি তাদের ৫২৮তম জয়। অস্ট্রেলিয়া ১০২০ ওয়ানডেতে ৬১৭ এবং ভারত ১০৭৫ ওয়ানডেতে ৫৭১ ম্যাচ জিতেছে।