একসময় যে দলটিকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বলা হতো ‘সম্ভাবনা আছে, শিরোপা নেই’, সেই দলই এখন আধিপত্যের নতুন নাম। স্বপ্ন নয়, বাস্তব। অপেক্ষা নয়, অর্জন। রবিবার আহমেদাবাদের রাত সাক্ষী হয়ে থাকল আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের। বিরাট কোহলির ব্যাটে ভর করে গুজরাটকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএলের শিরোপা জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে বেঙ্গালুরু। ১৫৬ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়ে ফেলে হাতে ২ ওভার রেখে।
এই জয়ের মাধ্যমে চেন্নাই, মুম্বাই ও কলকাতার পর আইপিএলে একাধিকবার শিরোপা জেতা চতুর্থ দল হলো বেঙ্গালুরু। আর চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তিও গড়ল তারা।
ফাইনালে টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাতিদার। সেই সিদ্ধান্ত দ্রুতই সঠিক প্রমাণিত হয়।
গুজরাটের দুই ওপেনার শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন বড় মঞ্চে ব্যর্থ হন। পাওয়ার প্লের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান দুজন। অভিজ্ঞ জস বাটলার কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও ১৯ রানে থামিয়ে দেন ক্রুনাল পান্ডিয়া।
গুজরাটের হয়ে সবচেয়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা তোলে ১৫৫ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন বিরাট কোহলি ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার।
প্রথম উইকেটে মাত্র ৫ ওভারের মধ্যেই ৬২ রান যোগ করেন তারা। দুজন মিলে মারেন ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা। বিশেষ করে কাগিসো রাবাদার প্রথম দুই ওভার থেকেই তুলে নেন ৩৭ রান।
প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ সিরাজের বাউন্সারে হাঁটুতে আঘাত পেলেও ভেঙ্কটেশ আইয়ার লড়াই চালিয়ে যান। অন্যদিকে কোহলি যেন নিজের মতো করেই লিখছিলেন ফাইনালের গল্প। যখন গুজরাট কিছুটা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছে, তখনই আইপিএল ক্যারিয়ারের দ্রুততম অর্ধশতক পূর্ণ করেন কোহলি। মাত্র ২৫ বলে পৌঁছে যান পঞ্চাশে।
মাঝে রশিদ খান এক ওভারে রজত পাতিদার ও ক্রুনাল পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান। তবে কোহলি ছিলেন অবিচল। এক পর্যায়ে শুভমান গিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু পুনরায় দেখা যায়, বল মাটিতে স্পর্শ করেছিল। সেই মুহূর্ত যেন বেঙ্গালুরু সমর্থকদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় করে দেয়- ইতিহাস এবার তাদেরই।
শেষ পর্যন্ত নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই ম্যাচ শেষ করেন কোহলি। আরশাদ খানের বলে মাথার ওপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে নিশ্চিত করেন জয়। ব্যাট আকাশে তুলে ধরেন তিনি, আর সঙ্গে সঙ্গে লাল-কালো জার্সির সমুদ্র আনন্দে ভেসে যায়।
এটি শুধু একটি শিরোপা নয়। এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর জন্ম নেওয়া এক সাম্রাজ্যের গল্প। আর সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও ছিলেন বিরাট কোহলি- যার ব্যাট কথা বললে ইতিহাসও যেন নতুন করে লেখা হয়।