খেলাধুলা

মিরপুরের গেটে রেখে আসুন ব্যক্তিগত পরিচয়: তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন অনেকটাই একপেশে হয়ে গিয়েছে। বিসিবি নির্বাচনে এরই মধ্যে ৮ পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত দুজন সরাসরি পরিচালক নির্বাচিত হবেন। ২৫ পরিচালক পদের ১০ জনই নিশ্চিত। বাকি থাকল কেবল ১৫ পদ। সেই ১৫ পদেই আগামী ৭ জুন হবে নির্বাচন।

ছকে কাটা এই নির্বাচনে কারা আসতে যাচ্ছেন তা মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে কান পাতলেই শোনা যায়। তবুও নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা তো আছেই। প্রার্থীরা ভোট চাইছেন কাউন্সিলরদের কাছে। শুক্রবার রাতে ক্লাব ক্যাটাগরির ১৬ প্রার্থী কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চাওয়ার জন্য ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।  

প্রত্যেক প্রার্থী বক্তব্য দিয়ে কাউন্সিলরদের কাছে ভোট চেয়েছেন। নিজেদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক পরিচয়, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি। নির্বাচন করেই তামিম আবার বোর্ডে আসতে যাচ্ছেন। বক্তৃতায় তামিম পরিচালকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছেন, “আমি একটা অনুরোধই করব ও আশা করব, এই ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ক্রিকেটার আছেন, ব্যবসায়ী আছেন, চিকিৎসক আছেন, রাজনৈতিক পরিবার থেকে আসা ব্যক্তিরা আছেন… বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভালোর জন্য একটা ব্যাপার আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আমরা যারাই নির্বাচিত হই না কেন, যখনই মিরপুর স্টেডিয়ামের গেইট দিয়ে ঢুকলে আপনাদের ব্যক্তিগত পরিচয় বাইরে রেখে আসবেন। যে মুহূর্তে ওই আসনে আপনারা বসবেন, আপনারা কেবল বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবা করবেন। আপনাদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের এখানে গুরুত্ব নেই। একটা ব্যাপারের মূল্য আছে, সেটা হলো আপনাদের ইচ্ছা।”

ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে যারা নির্বাচন করছেন তারা অনেকেই তরুণ, অনভিজ্ঞ। তবে এই তরুণদের উপরই তামিমের আস্থা জোরাল, ‘‘অবশ্যই অভিজ্ঞতার একটা মূল্য আছে, অভিজ্ঞ সংগঠকদের মূল্য আছে। পাশাপাশি এটিও বিশ্বাস করি, তরুণ, যুব ও তরতাজা মানসিকতার লোকজনও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সৌভাগ্য যে, এই ক্যাটাগরিতে এরকম অনেকেই আছেন। আশাকরি, তারা নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ভালো করে সার্ভ করবে, এটার মধ্যে আমিও পড়ি।”

এদিকে নির্বাচনের আগে আইসিসি দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। আইসিসি প্রতিনিধি দলের এই সফর নিয়েও নানরকম খবর ছড়িয়েছে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে। সেসব নিয়েও তামিম বলেছেন, ‘‘আইসিসির যে বিষয়টা, আইসিসি সবার সঙ্গেই কথা বলছেন, স্টেকহোল্ডার সবার সঙ্গেই কথা বলেছেন। আমাদের ইলেকশন কমিশনে যারা আছেন, উনাদের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা মিটিং করেছেন। আমার সঙ্গেও কথা বলেছেন। উনারা বলেছেন যে, উনারা গিয়ে কথা বলে পরবর্তীতে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আমরা এই সম্মান করি। এর মাঝখানে যে কিছু কিছু গুজব চলেছে, ওগুলোও কিন্তু আইসিসি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, এরকম ধরনের কোনো আলোচনা বা এরকম ধরনের কোনো কথা কাউকে বলা হয়নি। আমার কাছে মনে হয়, আমরা যে পজিশনে আছি, ওই পজিশনে থেকে যখন সঠিক সময়, সঠিক সময়ের মধ্যে আপনারা সবকিছু জানতে পারবেন।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের ক্রিকেট স্থায়ী হতে পারেনি। ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড থিতু হতে পারেনি। দেশের ক্রিকেটের এই অস্থিরতা কাটিয়ে স্থায়ী হওয়ার আশায় তামিম, “গত দেড়-দুই বছর ধরে অনেক ধরনের অনেক কিছু হচ্ছে। আমিও অনেক কিছু হয়তো অনেক সময় বলেছি। সব কিছু নিয়ে একটা অশান্তির মধ্যে ছিলাম। আমার কাছে মনে হয়, আশাকরি যে এই নির্বাচনের মাধ্যমে, নির্বাচনের পরে যারাই নির্বাচিত হবে, একটা সেটেলড বোর্ড হবে। সেটেলড বোর্ড হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সামনে নিয়ে যাবে।”