চার বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার হতাশা, অপেক্ষা আর সংগ্রামের গল্প পেরিয়ে অবশেষে দারুণ এক প্রত্যাবর্তন করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চাপের ম্যাচে ব্যাট হাতে ৮৬ রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে দলের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের কঠিন সময়, জাতীয় দলে ফেরার বিশ্বাস, ঘরোয়া ক্রিকেটের অবদান এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই অলরাউন্ডার। সেখানে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোসাদ্দেক বলেন, “যতটুকু না চেয়েছি, আল্লাহ তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছেন।”
পারফর্ম করেও অনেকটা সময় উপেক্ষিত ছিলেন। তবে কখনো বিশ্বাস হারাননি। জানতেন সুযোগ আসবে একটা সময়ে। সেই দিনটি আসায় বেজায় খুশি এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার, ‘‘অবশ্যই বিরক্তি এসেছিল। খুব সহজ সময় আমার জন্য ছিল না। আমার স্ট্রাগল পিরিয়ডটা হয়তোবা অনেকেই আপনারা দেখেছেন, হয়তোবা অনেকে দেখেননি। ঐ জায়গা থেকে আমি সবসময় ধৈর্য ধরার চেষ্টা করেছি এবং আমি আমার কাজগুলো করার চেষ্টা করেছি। এইটা মাথার মধ্যে ছিল যে একটা সুযোগ যখন আসবে, সেই সুযোগটা যেন আমি ভালোভাবে নিতে পারি। যতটুকু না চেয়েছি আল্লাহ তার থেকে অনেক বেশি দিয়েছেন।’’
আবাহনীর হয়ে মোসাদ্দেক শেষ তিন মৌসুমে নিজেকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। ব্যাট হাতে ১২৭৮ রান করার পাশাপাশি শিকার করেন ৫৮ উইকেট। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার হার না মানা মনোবলই তাকে এগিয়ে নিয়েছেন বলে মনে করেন মোসাদ্দেক, ‘‘আমি শেষ কয়েকটা বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট যেভাবে খেলছিলাম, এই বিশ্বাসটা ছিল যে এটা ধরে রাখতে পারলে একটা না একটা সময়ে আমার সুযোগ আসবে।’’
মোসাদ্দেক টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন, ‘‘আমি প্রথমেই ধন্যবাদ দেব ম্যানেজমেন্টকে। উনারা আমাকে যেভাবে ব্যাক করেছে, খেলার শুরুর আগে যেভাবে স্বাধীনতা আমাকে দিয়েছে, আমাকে শুধুমাত্র বলা হয়েছে আমার খেলাটাকে ইনজয় করতে। ঐ জিনিসটা খেলার সময় মাথার মধ্যে ছিল না যে অনেকদিন পরে আসছি বা কিছু। পরিস্থিতি ডিমান্ড করছিল, আমার কাছে মনে হয়েছে যে ওভাবে করেই যাওয়া উচিত। আমি জাস্ট আমার কাজটা করার চেষ্টা করেছি।’’
প্রথম ওয়ানডে জিতে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ এখন সিরিজ জিততে মুখিয়ে, ‘‘অবশ্যই এটা ঐতিহাসিক জয়। তবে আমি বলবো যে খুব ভালো একটা সুযোগ আছে আমাদের সামনে এই সিরিজটা জেতার মতো। আমরা যদি আমাদের প্রসেসে থাকতে পারি, অবশ্যই সম্ভব এবং সেই বিশ্বাসটা আমি থেকে শুরু করে আমাদের সবার সেই বিশ্বাসটা করতে হবে।’’
৭০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসে মোসাদ্দেক নিজের সামর্থ্য ফুটিয়ে তুলেছেন বড় মঞ্চে। ইনিংসের শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। ২০২২ সালে শেষ ওয়ানডে খেলার পর বাংলাদেশ খেলেছে ৬৩টি ম্যাচ। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরেও আত্মবিশ্বাসে একটুও ঘাটতি ছিল না তার। প্রথম বলেই নেন ৩ রান। এরপর অ্যাডাম জাম্পাকে ডাউন দ্য উইকেটে উঠে মারেন ছক্কা। ক্যামেরুন গ্রিনকে এগিয়ে এসে বাউন্ডারি, রেনশকে লং অফ দিয়ে বিশাল ছক্কা-প্রতিটি শটেই ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ।রিভার্স সুইপ, পুল, কাট-সব ধরনের শট খেলেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এখনও অনেক কিছু দেওয়ার আছে।
ইনিংসের শুরু থেকে আগ্রাসী মনোভাবে ব্যাটিং করার কারণ জানাতে গিয়ে মোসাদ্দেক বলেছেন, ‘‘আসলে হলে হলো, না হলে নাই, এভাবে কখনোই চিন্তা করি নাই। আমি শুধুমাত্র চেষ্টা করেছি, আমার যতক্ষণ ব্যাটিং করার সুযোগ থাকবে আমি যেন সর্বোচ্চ রানটা দলের জন্য করতে পারি। ক্যালকুলেটিভ যতটুকু রিস্ক নেওয়া দরকার, আমি ওইগুলাই চেষ্টা করেছি এবং চেষ্টা করেছি আমার জোনের শটসগুলো খেলার জন্য।’’