বিশ্বকাপে আবারও সেভেন আপ দিল জার্মানি। ব্রাজিল সমর্থকরা তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠতে পারেন প্রথম লাইন পড়ে। না, এবার প্রতিপক্ষ পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল নয়, বরং ঢাকার চেয়ে আয়তনে একটু বড় কুরাসাও!
কুরাসাওকে ফুটবল প্রামীরা প্রথম আবিষ্কার করে ২০২৩ সালের মার্চে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের পর। এদিকে এবারের বিশ্বকাপ ৪৮ দলের হওয়ায়, এই ধরনের আরও কয়েকটা দেশের নাম শুনেও ফুটবলপ্রেমীরা ধাক্কা খেতে পারেন। সে যাইহোক, হিউস্টনে রোববার রাতে যা ঘটল, তাতে কুরাসাওকে আসলে ভুলে যাওয়ার কোন উপায় আছে কি?
ক্যারিবিয়ান এই দ্বীপ দেশ জনসংখ্যায় বিশ্বকাপ ইতিহাসের ক্ষুদ্রতম দল! মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার একটি দেশটির জালে ৭ গোল দিল চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি! তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহুর্ত কি ছিল জানেন? যখন কুরাসাওয়ের লিভানো কোমেনেনসিয়া গোল করে তার দলকে ১-১ গোলে সমতায় ফেরান! এরপর জার্মানরা আরও ছয়বার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে। ইউলিয়ান নাগেলসমানের শীর্ষরা ম্যাচটা জিতেছে ৭-১ ব্যবধানে। তবে এত বড় ব্যবধানে হেরেও যেন জিতে গেছে ওই কুরাসিও!
এত ছোট একটা দেশ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে যে, জার্মানির জালে একটা গোল দিয়েছে, এটাই তো তাদের আজীবনের গল্পের খোড়াক! আজ থেকে ৫০ বছর পর যখন কুরাসাওয়ের প্রথম বিশ্বকাপে খেলার প্রসঙ্গে উঠবে, গল্প হবে যে, প্রথম গোলটি করেছেন কোমেননসিয়া!
শক্তির পার্থক্যে এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অসম ম্যাচ! অর্থাৎ শক্তিমত্তায় এতবড় তফাত এর আগে ছিল না! ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে জার্মানির অবস্থান নবম আর কুরাসাওয়ের ৮২তম। ২০১০ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়া–আইভরিকোস্ট ম্যাচের পর সবচেয়ে বড় ব্যবধান এটি, তবে র্যাঙ্কিং কি আসল কথা বলে? কারণ কুরাসাও বাছাইপর্ব খেলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর সাথে। তাই এই র্যাঙ্কিংকে খুব বেশি আমলে নেওয়ার উপায় নেই!
এদিকে, এরআগে ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জালে জার্মানি ৮ গোল দিয়েছিল। ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের সেমিফাইনালে ৭ গোলে দেয় জার্মানরা। মজার ব্যাপার হচ্ছে ওই দুই বিশ্বকাপেই ফাইনাল খেলেছিল জার্মানি এবং একবার শিরোপাও জেতে! এবারের বিশ্বকাপে সবে মাত্র প্রথম রাউন্ড শেষ হয়েছে, তবে সমর্থকরা ‘মিশন পেন্টার’ ব্যাপারে আশায় বুক বাঁধতেই পারে।