খেলাধুলা

মায়ের জন্য তাওহীদের গাড়ি

মায়ের জন্য একটি গাড়ি কেনার ইচ্ছা অনেকদিন ধরেই মনে লালন করে আসছিলেন বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। ব্যস্ততার কারণে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে না পারলেও ভাগ্য যেন তার জন্য অন্য এক পরিকল্পনা করে রেখেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল ক্রিকেটার’ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন একটি ব্র্যান্ড নিউ লাল চেরি গাড়ি।

সিরিজজুড়ে ব্যাট হাতে ছিলেন অসাধারণ ধারাবাহিক। তিন ম্যাচে ৭৭ গড়ে ১৫৪ রান করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন হৃদয়। তার চেয়ে বেশি রান করেন কেবল সিরিজসেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। হৃদয়ের ব্যাটিং নৈপুণ্যই তাকে এনে দেয় সিরিজের সবচেয়ে মূল্যবান ক্রিকেটারের স্বীকৃতি এবং আকর্ষণীয় এই গাড়ির পুরস্কার।

গাড়ি হাতে পাওয়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গাড়িটির সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে হৃদয় লেখেন, “মা, তোমার জন্য একটা গাড়ি কেনার নিয়ত করেছিলাম, তার কয়েক দিনের মধ্যেই পেয়ে গেলাম! অদ্ভুত না?” আবেগঘন এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ভক্ত-সমর্থকদের প্রশংসায় ভাসতে থাকে।

তবে হৃদয় ও তার মায়ের গল্প শুধুই একটি গাড়ি পাওয়ার আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মায়ের। ছোটবেলায় বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার একটি ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন হৃদয়। কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারে সেই স্বপ্ন পূরণের সামর্থ্য ছিল না। তখন ছেলের স্বপ্ন পূরণে শেষ সম্বল জমি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেছিলেন তার মা।

সেই টাকা নিয়ে ঢাকায় একটি ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হলেও প্রতারণার শিকার হন হৃদয়। একসময় ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু মায়ের ত্যাগ ও বিশ্বাস তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনে। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে।

মায়ের প্রতি হৃদয়ের ভালোবাসার আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। কয়েক বছর আগে মায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছিলেন তিনি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, মায়ের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পরই বুঝতে পেরেছিলেন পৃথিবীর সবকিছুর বিনিময়েও তিনি মাকেই চান। মায়ের কষ্ট, চিকিৎসা এবং তাকে হারানোর ভয় নিয়ে সেই চিঠি ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল।

এই গল্প শুধুই একটি পুরস্কারের নয়, এটি একজন সন্তানের স্বপ্ন, সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং মায়ের ত্যাগের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।