নির্বাচন

গোদাগাড়ীতে গণসংযোগে ব্যস্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদকরাজশাহী, ৯ ফেব্রুয়ারি : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর পরই গণসংযোগ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। আর প্রার্থীদের ব্যাপারেও আগ্রহ রয়েছে সাধারণ ভোটারদের। 

আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীরাও রয়েছেন মাঠে। তারাও সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা।

গোদাগাড়ী আফজি বালিকা বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার এক বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগের  কেন্দ্রীয় নেতা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আনুষ্ঠানিকভাবে গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুজ্জামান আসাদ, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে কাঁকনহাট পৌরসভার কাউন্সিলর হোসনে আরাকে দলের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীসহ গোদাগাড়ীর সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী।

বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে অধ্যাপক আসাদুজ্জামানকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা একেএম আতাউর রহমান খান।

এছাড়া নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন জেলা আওযামী লীগের সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক।

এছাড়া শনিবার উপজেলা সদর ডাইংপাড়া দলীয় কার্যালয় মাঠে বর্ধিত সভায় সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক অনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় সমর্থিত একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসাহাক আলী এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান রওশন আরা ডলির নাম ঘোষণা করেন। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল মনিরসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে উপজেলা বিএনপির আরেক অংশ চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হযরত আলীর নাম ঘোষণা করেছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির নেতা সাজেদুল হক মার্কনী বলেন, ব্যারিস্টার আমিনুল হক প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেন না। গত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে হযরত আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এবারের নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে হযরত আলী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

অপরদিকে তফসিল ঘোষণার দুই সপ্তাহ আগে জেলা জামায়াতের সভায় চেয়ারম্যান পদে রাজশাহী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ও জামায়াত নেতা অধ্যাপক কামরুজ্জামান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা জামায়াত নেতা অধ্যাপক ওবাইদুল্লাহর নাম ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে জোটগতভাবে উপজেলা নির্বাচন করার প্রস্তাব রয়েছে  বলে পৌর জামায়াতের এক নেতা জানান। বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের সুরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে অধ্যাপক কামরুজ্জামান ও অধ্যাপক ওবাইদুল্লাহ  গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দীন বিশ্বাস। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন।

এদিকে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে গোদাগাড়ী পৌরসভার কাউন্সিলর ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুফিয়া খাতুন মিলি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলাল উদ্দীনের ছেলে মাহাফিজুর রহমান সুমন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়ার প্রচারণায় নেমেছেন।  

 

রাইজিংবিডি / তানজিমুল হক / রণজিৎ