বার্মিংহাম থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক: ভারতের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে পাওয়া যাবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। জাতীয় দলের এ ক্রিকেটার আজ এজবাস্টনে দলের অনুশীলনে ছিলেন। নেটে ব্যাটিং করেছেন দীর্ঘ সময়। করেছেন ফিটনেস ট্রেনিং। তার ব্যাটিংয়ে কোনো সমস্যা নেই। নেটে দারুণ সময় কাটিয়েছেন। তবে ভাবনার বিষয় তার রানিং। ফিজিও থেকে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। অধিনায়ক জানালেন, খেলার সিদ্ধান্ত নেবেন মাহমুদউল্লাহ নিজেও।
সোমবার এজবাস্টনে শুরুতে ছিল ফিটনেস ট্রেনিং সেশন। সতীর্থরা যখন ফুটবল ও রানিংয়ে মাঠ চক্করে ব্যস্ত মাহমুদউল্লাহ স্ট্রেচিং করে কাটিয়েছেন লম্বা সময়। পুরোটা সময় পাশে থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহন।
অধিনায়ক মাশরাফি, ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ কিংবা নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, যারাই মাঠে ঢুকেছেন প্রতেক্যেই মাহমুদউল্লাহর কাছে গিয়ে নিয়েছেন খবর। স্ট্রেচিং শেষে সচরাচর মাঠে দৌড়ে বেড়ান ক্রিকেটাররা। শরীরের জড়তা দূর করেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ পারেননি। স্ট্রেচিং শেষে এক পায়ে ভর করে ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। সেটাও পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে স্কিল অনুশীলনে মনোযোগী হন এ ব্যাটসম্যান।
নেটে ঢুকতেই পাওয়া যায় চিরচেনা মাহমুদউল্লাহকে। ব্যাটিংয়ে ছিল না কোনো জড়তা। টাইমিং হচ্ছিল পারফেক্ট। ব্যাট-প্যাডের রসায়ন দারুণ। শুরুতে তাকে বল থ্রো করেন থ্রোয়ার বুলবুল। শুরুতে মাঝ ব্যাটে নক করছিলেন শুধু। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসেন খোলস থেকে। ডাউন দ্য উইকেটে এসে শট খেলেছেন, বসে সুইপ করেছেন, ইনসাইড আউট শট উড়িয়েছেন কভার দিয়ে। আবার আবার কাপার কাট, পুল, হুক সবই অনুশীলনের ২২ গজে ঝালিয়ে নিয়েছেন। দ্বিতীয় সেশনে তার সঙ্গে যোগ দেন নেটের লেগ স্পিনার ও ব্যাটিং কোচ নীল ম্যাকেঞ্জি। সেখানেও সাবলীল ব্যাটিং করেছেন মারকুটে ব্যাটসম্যান। তার ব্যাটিং দেখে এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়নি অস্বস্তিতে ভুগছেন।
নেট থেকে বেরিয়ে ড্রেসিং রুমে যেতে যেতে সে কথা শুনিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ নিজেও,‘পঞ্চাশ মিনিটের ওপরে নেটে ব্যাটিং করলাম। ব্যাটিংয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’ রানিং নিয়ে যত দুঃশ্চিন্তা তার,‘আমি তো আমার ১২০ ভাগ দিয়ে চেষ্টা করছি। রানিংয়ে সমস্যা আছে।’
ভারতের বিপক্ষে খেলতে মরিয়া হয়ে আছেন এ ক্রিকেটার। নিজেকে শেষ পর্যন্ত সময় দেবেন সে কথাও বলে যান এ ক্রিকেটার,‘সময় আছে। সকাল পর্যন্ত নিজেকে দেখব। এরপর সিদ্ধান্ত।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে অধিনায়ক মাশরাফিরও মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা শুনিয়ে গেলেন,‘ওকে তো ফিল্ডিং করতে হবে। শেষ ম্যাচে ছাড় পেয়েছিল। আগামীকাল তো আর পাবে না। সিদ্ধান্তটা ও নিবে, খেলবে নাকি খেলবে না।’ কাঁধের ইনজুরি দেশ থেকেই বয়ে এনেছেন। লম্বা থ্রোতে সমস্যা হচ্ছিল শুরু থেকেই। ফিল্ডিংয়ে লং থ্রো করতে পারছেন না। এর ওপরে কাফ মাসলে পাওয়া চোটে রানিংয়ে সমস্যা। এজবাস্টনের বড় মাঠে তাই মাহমুদউল্লাহর ফিল্ডিং নিয়ে যত ভয়। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহ খেলতে না পারলে তার জায়গায় আসবেন সাব্বির রহমান। রাইজিংবিডি/বার্মিংহাম/১ জুলাই ২০১৯/ইয়াসিন/শামীম