বার্মিংহাম থেকে ইয়াসিন হাসান: ক্রিকেট কতো কিছুর উপলক্ষ্য করে দেয় তা কেউ বলতে পারে না। এই যেমন গত পরশু এজবাস্টনে অনুশীলনের ফাঁকে ফাঁকে ইংল্যান্ড-ভারত ম্যাচের খবর একটু পর পর নিচ্ছিল বাংলাদেশ।
ভারত জিতলে বাংলাদেশের লাভ হতো। শুধু বাংলাদেশ না, প্রতিবেশি দুই রাষ্ট্র পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাও ভারতের জয়ের প্রার্থনা করছিল। ভারত জেতেনি। জিতেছি ক্রিকেট। তাইতো ধন্যবাদ দিতে ভুল করেননি মাশরাফি,‘ক্রিকেটে এই প্রথম দেখলাম যে সব এশিয়ার মানুষ একসাথে হয়েছে। চমৎকার। পেশাদারিত্বের এ যুগে সবাইকে একসাথ করা কঠিন। এটা ক্রিকেটের দ্বারা সম্ভব হয়েছে।’
সেই মাশরাফিরা আজ আবার ভারতকে হারাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নিজেদের সেরা দল নিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ইংল্যান্ডে উড়াল দিয়েছিল মাশরাফিরা। সেই যাত্রা থেমে যেতে পারে আজ, আবার টিকেও যেতে পারে। এজবাস্টনে হবে ফয়সালা। আজ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতলে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকবে। হেরে গেলে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে নিয়মরক্ষার।
বিশ্বকাপে ভারত বাংলাদেশের আরেকটি ম্যাচ। ২০১৫ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের পর দুই দল যতবার মাঠে নেমেছে ততবারই যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব তৈরি হয়েছে। সীমান্তে উত্তেজনা না ছড়ালেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে চলেছে সাইবার যুদ্ধ। খেলায় সেগুলোর প্রভাব না পড়লেও রক্ত-মাংসে মানুষ হওয়ায় সেগুলো চলে আসে অনফিল্ড।
তাইতো ক্রিকেটারদের উত্তপ্ত না হয়ে ঠান্ডা হওয়ার টনিক দিয়েছেন ক্যাপ্টেন কুল মাশরাফি,‘নিজেকে ঠান্ডা রাখা সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ। এটা দিন শেষে আরেকটি ম্যাচ। বাইরে কি হবে, ভেতরে কি হচ্ছে সেগুলো নিয়ে চিন্তা না করে ইন ফিল্ড নিয়ে ভাবা হবে ভালো কাজ। মাঠে ঠান্ডা থেকে নিজের কাজটা করে যাওয়া প্রত্যেকের কাজ হবে। প্রয়োজনের থেকে বেশি চাপ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন দেখি না। ’
ভারতকে হারাতে সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি নিয়েছে মাশরাফিরা। সাকিবের গতকালের অনুশীলন দেখে মনে হয়েছে এজবাস্টনে নতুন কোনো মিশনে নামবেন সাকিব। মাহমুদউল্লাহ চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ছিলেন প্রাণবন্ত। বাকিরা প্রত্যেকেই ছিলেন চার্জআপ। ভারতকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে একবারই হারিয়েছে ২০০৭ সালে। সেই জয়ের নায়ক ছিলেন মাশরাফি। আজ মাশরাফি নায়ক হবেন কিনা তা সময় বলে দেবে। তবে মাশরাফি তাকিয়ে দলীয় পারফরম্যান্সে,‘সাকিব যেভাবে পারফর্ম করছে কেন তাহলে আরেকবার হবে না? বাকিরা যারা আছে তারাও যদি এগিয়ে আসে অনেক কিছুই সম্ভব।’
৭ ম্যাচে ৩ জয় নিয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা টিকে আছে। ভারতের বিপক্ষে জয় পেলে সেটা অঘটন হবে না মোটেও। বরং ভারতের বিপক্ষে জয়টি নতুন করে বাংলাদেশকে উজ্জীবিত করবে বলে বিশ্বাস মাশরাফির,‘হয়তো আমাদের হাতে বেশি সুযোগ বাকি নেই। আমরা যদি আগামীকাল জয় পাই তাহলে সেটা হবে দারুণ। আমরা এতোদিন যে ক্রিকেট খেলে আসছি সেটার থেকে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ’
গত বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। বাংলাদেশ জিতেনি। শেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এজবাস্টনে সেমিফাইনালে খেলেছিল দুই দল। বাংলাদেশ পারেনি সেবারও। কলম্বোতে নিদাহাস ট্রফির টি-টোয়েন্টির ফাইনাল কিংবা ঢাকায় এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টির ফাইনাল, কোনোটিতেই বাংলাদেশ শেষ হাসি হাসেনি। এবার রাউন্ড রবিন লিগের ম্যাচ হলেও আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য একরকম নক-আউট ম্যাচ। সেমিফাইনালে টিকে থাকার লড়াইয়ে এই ম্যাচ জেতা জরুরী। মাঠের ভেতরের ও বাইরের চাপ সামলে নিতে পারলে মাশরাফিরা হাসবে এবারের হাসি।
রাইজিংবিডি/বার্মিংহাম/২ জুলাই ২০১৯/ইয়াসিন/শামীম