ঢাকা, বুধবার, ১৫ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

৩৪ বছর পর হেলাল হাফিজ

পলিয়ার ওয়াহিদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৫ ১১:১৪:৪৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৫ ১১:২২:৪৪ এএম

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর প্রকাশিত হলো হেলাল হাফিজের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। কবি বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সব সময়ই বই প্রকাশে দীর্ঘ বিরতির প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেছেন। অনেক সময় মুচকি হেসে বলেছেন তার প্রিয় আলস্যের কথা। তবে কবির দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ নিয়ে  পাঠকের কৌতূহল ছিল। বইটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে ৩৪ বছর পর পূরণ হলো সেই প্রতীক্ষা।

বেশ কিছু দিন অসুস্থ থাকার পর এই গ্রন্থ কবিকে পুলকিত করেছে। অনেক ভক্ত, কবিতাপ্রিয় পাঠকের ধারণা ছিল, পাঠক যদি ‘যে জ্বলে আগুন জলে’র মতো নতুন বইটি গ্রহণ না করেন, তাহলে কবির জন্য বেদনার হবে। অবশেষে সেই বেদনা-ভয় পরাজিত করে কবি কাব্যগ্রন্থের নাম রেখেছেন ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। নতুন বই প্রকাশিত হলো- কী ভাবছেন? জানতে চাইলে হেলাল হাফিজ বলেন, ‘অবশ্যই ভালো লাগছে। তবে কথা হলো, সবে তো বই বের হলো। পাঠক কীভাবে নেয় সেটাই তো আসল বিষয়।’

বইয়ের নাম প্রসঙ্গে কবি বলেন, ‘বেদনা ছাড়া কী শিল্প তথা কবিতা লেখা সম্ভব? বেদনাই তো আমার জীবন। তাই এমন নাম।’ মোট ৩৪টি কবিতা স্থান পেয়েছে বইটিতে। কিন্তু কবিতার সংখ্যা ৩৫টি। বাড়তি কবিতাটি কবি হেলাল হাফিজের পিতা খোরশেদ আলী তালুকদারের লেখা। তিনি কবি ও শিক্ষক ছিলেন। ‘পিতার পত্র’ শিরোনামে কবিতাটি সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় কবি হেলাল হাফিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। ২০১২ সালে ‘কবিতা একাত্তর’ ও ২০১৯ সালে ‘এক জীবনের জন্ম যখন’ প্রকাশিত হয়। এগুলো মূলত দ্বিভাষিক বই। সে অর্থে বইটি তাঁর দ্বিতীয় মৌলিক বই।

‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’র পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করতে কবি দুইশ কবিতা নিয়ে বসেছিলেন। সেখান থেকে প্রেম, বিরহ ও প্রযুক্তির প্রভাব সবকিছু মিলিয়ে এমন একটা সুর তিনি তৈরি করতে চেয়েছেন যা তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্যকে হৃষ্টপুষ্ট করবে। সমর্থন করবে। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ‘দিব্য প্রকাশ’। প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ: ধ্রুব এষ। মূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা।

‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’ থেকে ৫টি কবিতা পাঠকের জন্য প্রকাশ করা হলো।


সুদর্শনা

তোমার হাতে দিয়েছিলাম অথৈ সম্ভাবনা,
তুমি কি আর অসাধারণ? তোমার যে যন্ত্রণা
খুব মামুলী, বেশ করেছো চতুর সুদর্শনা
আমার সাথে চুকিয়ে ফেলে চিকন বিড়ম্বনা।

 

ঋণ

আজন্ম মানুষ আমাকে পোড়াতে পোড়াতে কবি করে তুলেছে
মানুষের কাছে এও তো আমার একধরনের ঋণ
এমনই কপাল আমার
অপরিশোধ্য এই ঋণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

 

আছি

আছি।
বড্ড জানান দিতে ইচ্ছে করে,
আছি,
মনে ও মগজে
গুনগুন করে
প্রণয়ের মৌমাছি।

 

সতীন

তুমি আমার নিঃসঙ্গতার সতীন হয়েছো!

 

রাখালের বাঁশি

কে আছেন?
দয়া করে আকাশকে একটু বলেন-
সে সামান্য উপরে উঠুক,
আমি দাঁড়াতে পারছি না।

 

ঢাকা/তারা