RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭ ||  ১৩ রজব ১৪৪২

‘ভার্চুয়াল বইমেলার জন্য বাংলা একাডেমির প্রয়োজন নেই’

জাহিদ সাদেক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১০, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:২৭, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১
‘ভার্চুয়াল বইমেলার জন্য বাংলা একাডেমির প্রয়োজন নেই’

অনেক শঙ্কা, অনিশ্চয়তা অতিক্রম করে মার্চের মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একুশে গ্রন্থমেলা। দেশের অন্যান্য শিল্পের মতো প্রকাশনা শিল্প করোনাসৃষ্ট মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কতটা সহায়ক হবে এবারের গ্রন্থমেলা? প্রকাশকরা কী ভাবছেন, পাঠকের প্রস্তুতিই-বা কী, করোনা সতর্কতায় মেলায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে- ইত্যাদি বিষয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশ-এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। কথোপকথনে ছিলেন জাহিদ সাদেক

রাইজিংবিডি: প্রথমেই জানতে চাই, শুরুতে একুশে গ্রন্থমেলা ভার্চুয়ালি করার কথা শোনা যাচ্ছিল। ভার্চুয়ালি মেলার ধারণাটি আসলে কেমন ছিল? 

মাজহারুল ইসলাম: আমরা কখনোই ভার্চুয়াল বইমেলার পক্ষে ছিলাম না। আর এখন যেহেতু এটা হচ্ছে না, তাই এ নিয়ে কথা না-বলাই ভালো। তবে বাংলা একাডেমি যে ধরনের ভার্চুয়াল বই মেলার ধারণা দিয়েছিল, এমন বইমেলা সারা বছর বিভিন্ন বিক্রয় প্রতিষ্ঠান করে। কাজেই অমর একুশে বইমেলা ভার্চুয়ালি করার কোনো কারণ ছিল না। আর এমন বইমেলা আয়োজন করার জন্য বাংলা একাডেমিরও প্রয়োজন নেই।

রাইজিংবিডি: এমন একটি সময় যখন করোনা একেবারে দূর হয়নি; এ সময় মেলার প্রয়োজনীয়তা কতটা বলে আপনি মনে করেন?

মাজহারুল ইসলাম: বাংলাদেশ সরকারের করোনাকালীন স্ট্রাটেজি হচ্ছে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে দেশে কোনো অর্থনৈতিক কাজই বন্ধ রাখা যাবে না। তাছাড়া আমরাও সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলেছিলাম, বাংলাদেশে শপিং মল, কলকারখানা এবং গণ-পরিবহনসহ সবই যেহেতু স্বাভাবিক নিয়মে চলছে, সেক্ষেত্রে কেন বইমেলা বন্ধ রাখা হবে? তাছাড়া বইমেলার প্রকৃত আবহ ভার্চুয়াল বইমেলার মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। বইমেলা শুধু বই কেনা-বেচার জায়গা না। এটি লেখক এবং পাঠকের মধ্যে যোগাযোগেরও জায়গা। এখানে আড্ডা হয়, গল্প হয়। এত বড় একটি জিনিস অনলাইনে করা সুন্দর বা সুখময় কিছু হবে বলে আমার মনে হয় না। তাছাড়া বাংলাদেশের মানুষও ভার্চুয়াল বই মেলায় বই কিনে অভ্যস্ত নয়। তাই ভার্চুয়াল বইমেলা কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। একটু স্বাস্থ্যসচেতন থাকলেই বইমেলা আয়োজন করা সম্ভব। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের মেলা করার অনুমতি দিয়েছেন।

রাইজিংবিডি: তো, এবারের একুশে গ্রন্থমেলা ভিন্ন হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই, অন্তত আয়োজনের দিক থেকে। আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

মাজহারুল ইসলাম: বইমেলা আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। প্রকাশকদের দুটি সমিতি আছে তারা এ আয়োজনে সহযোগিতা করে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হলো অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবকিছু চলমান রাখতে হবে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে সবকিছুই প্রায় খোলা। কমিউনিটি সেন্টারগুলোও খোলা। সেখানে বড় বড় অনুষ্ঠান হচ্ছে। তাছাড় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় করোনা পরিস্থিতি আমাদের দেশে বেশ ভালো। বইমেলা হবে একটি উন্মুক্ত মাঠে। এজন্য আমাদের ঝুঁকি আরো কম। মেলা শুরুও হবে একটু দেরি করে; ১৮ মার্চ থেকে। আমাদের ধারণা ততদিনে করোনা পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রণে আসবে।

প্রকাশকদের দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা ১২ দফা দাবি পেশ করেছি। এর মধ্যে অন্যতম হলো- মেলার প্রবেশ ও বাহির হওয়ার গেট বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতি এবং মেট্রোরেলের কাজ চলমান থাকায় পূর্বের প্রবেশদ্বারগুলো রাখলে বেশ জটলার সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, তিন নেতার মাজার, দোয়েল চত্বর, শাহবাগসহ বেশ কিছু জায়গায় বড় বড় প্রবেশ দ্বার রাখার জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। এছাড়া দর্শণার্থী ও যারা স্টলে বই বিক্রি করবেন তারা সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচেতনতার সঙ্গে মেলায় প্রবেশ করবেন। স্টলগুলো যেনো একটু দূরে দূরে স্থাপন করা হয় এবং চারদিক থেকে এক্সেস করা যায় সে ব্যবস্থা করার জন্য সুপারিশ করেছি। বইমেলায় ‘নো মাক্স নো এন্ট্রি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সবারই স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টিতে সচেতন থাকতে হবে।

রাইজিংবিডি: সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

মাজহারুল ইসলাম: সরকারেরর  কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল করোনা পরিস্থিতির কারণে ৭৫ শতাংশ দোকান ভাড়া প্রণোদনা হিসেবে দিতে। তারপরও সরকার ও সংস্কৃতি  মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ আমাদের তারা নিরাশ করেনি। আমাদের দোকান ভাড়া বাবদ ৫০ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে তারা।

রাইজিংবিডি: এ বছর বইমেলা নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত প্রত্যাশা কী?

মাজহারুল ইসলাম: অমর একুশে গ্রন্থমেলা নিছক বইমেলা নয়। এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে গেছে। প্রতি বছর বইমেলার জন্য প্রকাশক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। প্রকাশিতব্য বইয়ের পাণ্ডুলিপি এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়ে গেছে। আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে পাঠক যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলায় আসেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন যাতে একটি সুন্দর মেলা উপহার দিতে পারেন এটুকুই সবার কাছে প্রত্যাশা।

 

একুশে গ্রন্থমেলা নিয়ে রাইজিংবিডির ধারাবাহিক আয়োজনে আরো পড়ুন:  
পিছিয়ে গেলেও বইমেলা ভালো হবে: ফরিদ আহমেদ

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়