ঢাকা     সোমবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৯ ||  ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

বইয়ের পাতায় বিশ্বকাপ

এম আর লিটন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩৩, ২২ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৬:৫৬, ২২ নভেম্বর ২০২২
বইয়ের পাতায় বিশ্বকাপ

বিশ্বজয়ী বিশ্বকাপ। কথাটি আক্ষরিক অর্থেই সত্য। পৃথিবী বুঁদ হয়ে থাকবে ফুটবল নিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লেখকদেরও এ নিয়ে উচ্ছ্বাস রয়েছে। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে, ফুটবল মাঠের বিভিন্ন ঘটনা উপজীব্য করে তারা বই লিখেছেন। সেগুলো পাঠকপ্রিয় হয়েছে। রইলো তেমন ১২টি বইয়ের খোঁজ। লেখাটি অনুবাদ করেছেন এম আর লিটন

ওয়ার্ল্ড কাপ নাগেটস 

রিচার্ড ফস্টার রচিত বিশ্বকাপ নিয়ে তথ্যমূলক বই ‘ওয়ার্ল্ড কাপ নাগেটস’। আপনি কি এমন কেউ যিনি বিশ্বকাপ সম্পর্কে বিশেষ তথ্য এবং সমস্ত ছোট ছোট ঘটনার বিবরণ পছন্দ করেন যা অন্যরা পাত্তা দেয় না? যদি তাই হয় তাহলে আপনার জন্য এই বই। কেন আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের চারপাশে কালো ব্যান্ড ছিল? ১৯৭৮ সালের পর থেকে কোন বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখানো হয়নি? আপনি যদি চমকে ওঠার মতো এই তথ্যগুলো জানতে চান তাহলে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ নাগেটস’ আপনার জন্য সেরা বই। সর্বশেষ ২০২২ সালে বইটির নতুন সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে। 

হাউ টু উইন দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ

ক্রীড়ালেখক ক্রিস ইভান্সের লেখা বই ‘হাউ টু উইন দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ’। বিশ্বকাপে মাত্র ২০ জন পরিচালক বা কোচ জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ জয়ের পথ দেখিয়ে ছিল। বইটিতে লেখক বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট জয়ের গোপনীয়তা ও চাবিকাঠির অনুসন্ধান করেছেন। বইটিতে সাংবাদিক, খেলোয়াড় ও পরিচালকদের অর্ন্তদৃষ্টিমূলক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন তথ্য লেখক সন্নিবেশিত করেছেন। এখানে বিশ্বকাপের সাফল্য, ব্যর্থতা, নাটকীয়তা ও বিতর্কের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। 

১৯৮২ ব্রাজিল: দ্য গ্লোরিয়াস ফেইলুরে

ক্রীড়া লেখক স্টুয়ার্ট হর্সফিল্ড রচিত বইটিতে ১৯৮২ সালে ব্রাজিল দলের গল্পের কথা বলা হয়েছে। যারা সেসময় ফুটবল খেলার পথ বদলে দিয়েছিল। তারা চিত্তাকর্ষক খেলার মাধমে বিশ্বকাপ মঞ্চ আলোকিত করে, ফুটবল খেলায় এক ধরনের নান্দনিকতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এটিই পরে ‘ফুটবল আর্ট’ নামে পরিচিতি পায়। সেবার দলের পাঁচজন ১৫ গোল করে এবং বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। যদিও ইতালির বিরুদ্ধে তাদের স্বপ্ন ভেঙে পড়ে। সেমিফাইনালে উঠতে না পারলেও সেবার দলের গৌরবময় ব্যর্থতার সাক্ষী হয়েছিল অনেকই। ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেই স্মৃতি ও জিততে না-পারা, এমন সেরা দলের চূড়ান্ত বিবরণ নিয়ে এই বই।

হাউ ফুটবল কাম হোম

সাংবাদিক ও লেখক বার্নি রনে রচিত ‘হাউ ফুটবল (নেয়ারলি) কাম হোম : অ্যাডভেঞ্চারস ইন পুতিনস-ওয়ার্ল্ড কাব’। ১৮১৬-২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল। সেই খারাপ পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাটি ছিল ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে পাওয়ার খুব সম্ভাবনা ছিল। খেলা দেখতে সেদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন বার্নি রনে। সেই অভিজ্ঞতার কথাই তিনি বইতে তুলে ধরেছেন।

এগেইনস্ট অল অডস: দ্য গ্রেটেস্ট ওয়ার্ল্ড কাপ আপসেট

লেখক ডেভিড উইনার রচিত বইটিতে বিশ্বকাপের সবচেয়ে অসম্ভাব্য কিছু ফল তুলে ধরা হয়েছে। সেই বিজয় কীভাবে অর্জিত হয়েছিল, সে সময় এবং পরে কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে এই বইয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

গাইড টু দ্য কাতার ওয়ার্ল্ড কাপ

লেখক জন বেরি রচিত বইটিতে ফুটবল কীভাবে মরুভূমির দেশ কাতারে এসেছিল, যা এখনো টিকে আছে সেকথা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপ কেমন হবে এবং ফুটবলের ল্যান্ডস্কেপ কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে সে সম্পর্কে হালকা ভাষ্য রয়েছে এই বইয়ে। 

স্পিরিট অব ৫৮

১৯৫২ সালে বিশ্বকাপের সময়, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ছোট্ট দেশটি ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে মাত্র দুইটি ম্যাচ দূরে ছিল। ড্যানি ব্ল্যাঞ্চফ্লাওয়ারের নেতৃত্বে তারা দলবদ্ধ হয়ে ফুটবল খেলতে থাকে। বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে তারা স্বপ্ন দেখে। সে সময়ের বেঁচে থাকা খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকারসহ, বইটিতে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল দলের পুরো গল্প উঠে এসেছে। ‘স্পিরিট অব ৫৮’ এমন একটি বই যা ফুটবল ও ক্রীড়া অনুরাগীদের রোমাঞ্চিত করে।

নো লিঙ্গের নেভ

লেখক ইব্রাহীম মুস্তাফা রচিত ‘নো লিঙ্গের নেভ’ বইটিতে বিশ্বকাপে আফ্রিকান ফুটবলের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, আফ্রিকান ফুটবলের কৌশল এবং কীভাবে বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিকভাবে খেলার শীর্ষস্থানে পরিণত হয়েছে তা গভীরভাবে উঠে এসেছে। আফ্রিকার কোনো দলের পক্ষে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জেতার সম্ভবনা আছে কিনা তা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে।

ব্লাড অন দ্য ক্রসবার

লেখক রিস রিচার্ডসের এই বই সর্বকালের সবচেয়ে বিতর্কিত ফুটবল বিশ্বকাপের গল্প নিয়ে। ১৯৭৮ সালে নৃশংস সামরিক একনায়কত্বের পটভূমিতে, আর্জেন্টিনা আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের গল্প। শুধু ফুটবলার ও জেনারেলদের গল্প নয়, তারা সফল হওয়ার জন্য যে কৌশল নিয়েছিল এই বইতে সেই ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও আর্জেন্টিনার নির্বাসিত, প্যারিসের ছাত্র, সাহসী সাংবাদিক, প্লাজা ডি মায়োর মার্চিং মায়েরা ও তাদের নিখোঁজ  হওয়া সন্তানদের গল্প লিপিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও ডাচ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান যারা, হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে আন্তর্জাতিক বয়কটের যে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সে বিষয় এই বইতে লেখা হয়েছে।

১৯৬৬: মাই ওয়ার্ল্ড কাপ স্টোরি

১৯৬৬ সালে গৌরবময় ফুটবল খেলেছিল ইংল্যান্ড। সে বছরের স্মৃতি স্যার ববি চার্লটন এই বইয়ে বর্ণনা করেছেন। সেবার তারা বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলেছিল। ববি চার্লটন সেই জয় যাত্রার স্মৃতি বর্ণনা করেছেন। 

দ্য টাইমস ওয়ার্ল্ড কাপ মোমেন্টস

রিচার্ড হোয়াইটহেড রচিত বইটিতে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা কিছু মুহূর্ত এক মলাটে তুলে আনা হয়েছে। স্ট্রাইকিং, ফুল-কালার ফটোগ্রাফি, খুব কম দেখা আর্কাইভাল ইমেজ এবং অ্যাকশনের চাঞ্চল্যকর রিপোর্টিংসহ, টাইমস ওয়ার্ল্ড কাপ মোমেন্টস বিশ্বের বৃহত্তম একক ক্রীড়া ইভেন্টের অনানুষ্ঠানিক গল্প বলে।

তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়