ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

অবৈধভাবে ওড়ানো হচ্ছে ড্রোন, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

রেজাউল করিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-১২ ৮:৫১:১৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-১২ ৬:৫৪:৩৩ পিএম
অবৈধভাবে ওড়ানো হচ্ছে ড্রোন, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বাণিজ্যিক ও বিনোদনমূলক ভিডিও নির্মাণে অবৈধভাবে ব্যবহৃত বা ওড়ানো হচ্ছে ড্রোন (মনুষ্যবিহীন উড়োযান)।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ড্রোন আমদানি, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও কতিপয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তা মানছেন না।  সাধারণের চোখে ড্রোনের ব্যবহার কোন নেতিবাচক কাজে ব্যবহার করতে দেখা না গেলেও কৌশলে তা কুচক্রী মহল অপরাধমূলক কাজেও ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় পুলিশ এ ব্যাপারে তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সামগ্রীকভাবে দেশে ড্রোনের আমদানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি নিয়ে ড্রোন ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইন-শৃংখলা রক্ষায় পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ড্রোন ব্যবহার বা ওড়াতে পারেন।

সর্বসাধারণের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ড্রোন ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। অবৈধ এবং যথেচ্ছভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, প্রমোশনাল ও প্রচারণামূলক কাজে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ ড্রোন। মহানগরীর অভ্যন্তরে এবং নগরীর বাইরে উপজেলা পর্যায়েও বিয়ে বা মেহেদী অনুষ্ঠান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন, বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বড় বড় আয়োজন এবং তাদের প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন চিত্র তৈরি, মিউজিক ভিডিও বা নাটক তৈরি, মডেল ফটোশুট কিংবা এভি তৈরিসহ নানা ধরনের ভিডিও ধারনে অবৈধভাবে ড্রোন ওড়ানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম নগরীতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও ধারনকারী একটি প্রতিষ্ঠান হ্যালো চিটাগাং। অবৈধভাবে ড্রোনের ব্যবহার প্রসঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের ফাউন্ডার রিয়াদ খান রাইজিংবিডিকে জানান, তিনি যেসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে ড্রোন ব্যবহার করেন সেসব প্রতিষ্ঠান নিজেরা ড্রোন ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে থাকে। তবে তিনি ড্রোন সংরক্ষণ বা ব্যবহারের জন্য কোন অনুমতি নেন না বা প্রয়োজন হয়না বলে জানান। ড্রোন রাখার জন্য কোন অনুমতির প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। তবে চট্টগ্রামে শত শত অনুষ্ঠানে ড্রোন ব্যবহার হলেও কোন প্রতিষ্ঠানকেই ড্রোন ব্যবহারের জন্য সিভিল এভিয়েশন কোন অনুমতি দেয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কোন কাজে ড্রোন ব্যবহারের তথ্য পাওয়া না গেলেও বিনা অনুমতিতে যথেচ্ছ ড্রোনের ব্যবহার অপরাধমূলক বা আইন-শৃংখলা পরিপন্থী কাজেও ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে চট্টগ্রামে দু’টি বড় শিল্পগ্রুপের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামে কেএসআরএম স্টিল প্লান্ট-এর উপর অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী পিএইচপি গ্রুপ কর্তৃক ড্রোন উড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় পিএইচপি গ্রুপের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়রি করেছে কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দেশের আকাশ সীমায় ড্রোন ওড়াতে হলে দেড় মাস আগে অনুমতি নিতে হবে। আর কেউ নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বিনা অনুমতিতে দেশের আকাশে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করে সিভিল এভিয়েশন। আর যেসব স্থানে বিমানবন্দর নেই সেখানে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তবেই ড্রোন ব্যবহার করা যাবে। ড্রোন ওড়াতে সিভিল এভিয়েশনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে যথেচ্ছ ড্রোন ব্যবহার হলেও পুলিশ প্রশাসন থেকে ড্রোন ব্যবহারের জন্য কখনো কেউ অনুমতি গ্রহণ করেনি। ঢাকা মহানগর পুলিশ অনুমতিবিহীন ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলেও চট্টগ্রামে পুলিশের এই ধরণের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

এসব প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পিআর অ্যান্ড আইসিটি) আবু বকর সিদ্দিক রাইজিংবিডিকে জানান, ড্রোন ওড়ানোর জন্য নীতিমালা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা উপেক্ষা করে অনুমতিবিহীন কোথাও ড্রোন ওড়ানোর তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯/রেজাউল/বুলাকী

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন