ঢাকা, শনিবার, ৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নুসরাত হত্যা : আসামি মণির কারাগারে প্রসব

জেলা সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২১ ৪:০৪:০৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-২১ ৫:৩১:৫৯ পিএম
বাঁয়ে নুসরাত হত‌্যা মামলার আসামি কামরুন নাহার মণি, ডানে নুসরাত জাহান রাফি।

কন্যা সন্তানের মা হলেন সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কারাবন্দি কামরুন্নাহার মণি। তিনি নুসরাতের সহপাঠী ও বান্ধবী ছিলেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক‌্যাল অফিসার আবু তাহের জানান, মা ও মেয়ে দু’জনই সুস্থ আছেন।

এর আগে পাঁচ মাসের গর্ভাবস্থায় নুসরাত হত‌্যায় অংশ নেন মণি। গত ২১ এপ্রিল শনিবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে মণি এ জবানবন্দি দেন।

২২ এপ্রিল রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। একই দিন ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেন এ মামলার অন্যতম আসামি জোবায়ের।

জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল। জোবায়েরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উদ্ধৃতি দেন তিনি। মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ম্যাচের কাঠি জ্বেলে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরান জোবায়ের।

স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে জোবায়ের বলেন, ‘রাফিকে (নুসরাত) ছাদে ডেকে নিয়ে যায় পপি। সেখানে আগে থেকেই আমি অপেক্ষা করছিলাম। আমার সঙ্গে ছিল মণি, পপি, শাহাদাত ও জাবেদ। রাফি ছাদে এলে আমরা তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দিই। রাজি না হলে তার হাত-পা বেঁধে ছাদে শুইয়ে ফেলি। এরপর রাফির পা চেপে ধরে পপি। মুখ চেপে ধরে শাহাদাত। মণি রাফির বুক চেপে ধরে। জাবেদ কেরোসিন ঢালে এবং আমি দিয়াশলাই দিয়ে গায়ে আগুন ধরাই।’

নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মিশনে সরাসরি জড়িত ছিলেন কামরুন নাহার মণি। নুসরাতের বুকসহ শরীর চেপে ধরেন এবং বোরখার ব্যবস্থা করে দেন। নুসরাতের পা বেঁধে চলে যাওয়ার সময় মণি তাকে সম্পা বলে ডাকে।

প্রসঙ্গত,গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে যান। পরীক্ষা শুরুর আগে তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয় পাঁচজন। তারা হলেন- শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের হোসেন, জাবেদ হোসেন, কামরুন নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

মামলার ১২ জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক চলছে। আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে এ আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে বলে বাদী পক্ষের আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেছেন।


ফেনী/সৌরভ পাটোয়ারী/সনি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন