ঢাকা, বুধবার, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় আ’লীগ নেতা বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১০ ২:১২:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১০ ২:১২:০৯ পিএম

ফেসবুকে মন্তব্য করে সাময়িক বহিস্কার হলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শেখ বাহারুল আলম।

এছাড়াও কেন তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হবে না, তা আগামী ৭ দিনের ভিতরে জানাতে বলা হয়েছে।

বুধবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী, সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মোল্লা জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট কাজী বাদশা মিয়া, পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী, বি এম এ সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জামাল ও মো. আক্তারুজ্জামান বাবু এমপি, ত্রাণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিমাই চন্দ্র রায়, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরিদ আহম্মেদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হালিমা ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ আলম প্রমুখ।

বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরিদ আহম্মদ বলেন, বুধবার রাতে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সরকার প্রধান, দলীয় প্রধান ও রাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্য ফেসবুকে প্রদান এবং গত ৭ অক্টোবর স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় তা প্রকাশিত হওয়ায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. শেখ বাহারুল আলমকে দল থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া কেন তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হবে না, তা আগামী ৭দিনের ভিতরে জানাতে বলা হয়েছে।

এর আগে রোববার বিকালে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ৭১’র ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির খুলনা জেলা সভাপতি ও বিএমএ খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটিতে বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত একটি সংবাদের লিঙ্কও শেয়ার করেন।

এ ব্যাপারে ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত অফিসিয়াল কোনো কাগজ বা চিঠি পাইনি। আমি বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক ও আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে দেশের পক্ষে কথা বলা ও ভারতের বিপক্ষে কথা বলা দলের বিরুদ্ধে কথা বলা হতে পারে না। বাংলাদেশের যে সকল স্বার্থ এবং অধিকার ভারতের কাছ থেকে পাওয়া আবশ্যক ছিলো তা না পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ উক্তি ফেসবুকে দেয়া হয়েছে। এতে জননেত্রী শেখ হাসিনা, আ’লীগ ও ভারত সফর সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা হয়নি। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের স্বার্থ ভারত যথাযথভাবে পালন না করার কারণে সংক্ষুব্ধ হয়ে কথা বলেছি। এভাবে যদি আমাদের অধিকার ক্ষুন্ন হতে থাকে এক সময় আমাদের সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেবে। ভারত এর আধিপত্যের কারণে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন একটি আশঙ্কা থেকেই এ বক্তব্য দেয়া। এটা কোনভাবেই দল বিরোধী ও দলীয় সরকার বিরোধী বা রাষ্ট্র বিরোধী তো নয়ই। তারপরও তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি মনে করি তাদের সুবুদ্ধির উদয় হবে। হাতে কাগজ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’


খুলনা/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন