ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

মামুন চৌধুরী : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৪ ১১:৩৫:২৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৪ ২:২২:৩৩ পিএম

জেলার বাহুবল উপজেলার বিশাল অংশজুড়ে পাহাড়ি এলাকা। এ এলাকা মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর।

এখানের পাহাড়ে চা, লেবু, আনারস, রাবার, কলা, মাল্টা, কমলা, পেঁপে, পান, সুপারি, নাগা মরিচ, কাঁঠাল, আম, লিচু, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলি বাগান গড়ে উঠেছে। মাটির নিচে রয়েছে প্রাকৃতিক মূল্যবান সম্পদ গ্যাস ও তেল।

এসব থাকায় অসংখ্য লোকের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। উপকৃত হচ্ছে দেশ। বিশেষ করে এ পাহাড় পরিবেশ রক্ষায় বিরাট ভূমিকা পালন করছে।

কিন্তু এখানে একশ্রেণির বালুখেকোরা পাহাড়ের টিলা, ছড়া ও নদীনালায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। যার ফলে বিভিন্ন পাহাড়ি রাস্তা, টিলা, বসতবাড়ি, ব্রিজ হুমকির মুখে পড়েছে।

এরমধ্যে বহু টিলা চিহ্নহীন হয়ে পড়েছে। অনেক টিলা ধসে পড়ছে। সময়ের সাথে ছড়া রুপ নিচ্ছে নদীতে। রাস্তা ও ব্রিজ ধসে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব হওয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। অতিষ্ঠ হয়ে লোকজন এর প্রতিবাদ করছেন। তাতেও থেমে নেই বালুখেকোরা।

যেখানে এক সময়ে দুবেলা ভাত খেতে পারতেন না সেখানে অনেকেই প্রতিযোগিতামূলক বালু ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তৃণমূল জনগণের কথা চিন্তা করে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছেন বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা হক।

তিনি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে নেমেছেন। এ অভিযান বন্ধ করতে বালুখেকোরা উঠেপড়ে লেগেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আয়েশা হক সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে একের পর এক তিনি অভিযান পরিচালনা করছেন।

চলতি বছরের ১০ জুলাই থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ইউএনও আয়েশা হকের নেতৃত্বে পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পরিচালিত এ অভিযানে ২১টি ড্রেজার মেশিন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। জব্দ করা হয় তিনটি মেশিন ও প্রায় ২০০০ মিটার পাইপ। দণ্ড প্রদান করা হয় বালু ব্যবসায় জড়িত ছয়জনকে।

তবুও বালু ব্যবসায়ীরা থেমে থাকতে রাজি নয়। তারা যেকোন মূল্যে বালু উত্তোলন চালিয়ে যেতে চান। আর পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রাণপণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন ইউএনও আয়েশা হক। তার এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকার ৯০ ভাগ লোক।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়, এছাড়া পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে ২০ আগস্ট পাহাড়ের মাধবীছড়া বালুমহালের ও ৮ আগস্ট কামাইছড়া বালুমহালের লীজ বাতিলের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানানো হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় গর্ত ও পাইপ। এসব গর্তে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। টিলার বিভিন্ন গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে ড্রেজার মেশিন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বালুখেকোরা টিলার গর্তে পাইপ প্রবেশ করিয়ে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করছেন।

পরিবেশ প্রেমিক আব্দুল কাদির বাবুল রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ইউএনও আয়েশা হক চেষ্টা চালাচ্ছেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে। তাকে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব। তিনি সাহসের সাথে বালুখেকোদের মোকাবেলা করছেন। আমরা তার সাথে আছি।’

পাহাড়ি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নামপ্রকাশ না করে বলেন, ‘প্রশাসনের সাথে সবাই সহযোগিতা করলে বালুচোররা পালাতে বাধ্য হবে। তবে সংখ্যায় কম হলেও তাদের পাশে শক্তিশালী মহলের যোগসাজশ আছে। এ কারণে তাদের সাথে পেরে উঠা কঠিন। তারপরও নিরাশ হলে চলবে না। ইউএনও মহোদয়ের বালু উত্তোলন বন্ধে যৌক্তিক কার্যক্রমে আমাদের মৌন সমর্থন আছে।’

ইউএনও আয়েশা হক বলেন, ‘অপরাধীরাদের সাথে আপোস নয়। তারা সমাজের কীটপতঙ্গ। তাদেরকে ছাড় দেওয়া যাবে না। অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। প্রশাসন এটা কোনভাবেই মেনে নিবে না। এখানে এসেছি তৃণমূল মানুষের মাঝে সরকারের জনকল্যাণমুখী কাজ পৌঁছে দিতে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও তৃণমূল মানুষের কল্যাণে কাজ করতেই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে মাঠে আছি।’

ভাল কাজে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।


হবিগঞ্জ/মামুন চৌধুরী/জেনিস

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন