ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

চ্যালেঞ্জের মুখে কেসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৪ ৩:৩৩:৩৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৪ ৩:৩৩:৩৩ পিএম

খুলনা নগরে দাপিয়ে বেড়ানো অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশা বন্ধে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কেসিসি। নানা নির্দেশ ও পদক্ষেপের পরও তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরজুড়ে।

তিন দফায় সময় বৃদ্ধির পর নগরীতে এ রিকশা চলাচল বন্ধে কেসিসি’র বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) । তবে, সময় শেষ হতে চললেও রিকশা মালিক ও চালকরা এখনও ব্যাটারি অপসারণ করেননি। এ অবস্থায় কেসিসি নগরীর ৩৮৭টি রিকশার ব্যাটারি চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযানে নামছে।

এদিকে, কেসিসি’র এ কার্যক্রমের প্রতিবাদে সোমবার থেকে নগরীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য রিকশা চলাচল বন্ধের ডাক দিয়েছে চালকরা। রোববার রাতে দৌলতপুর রিক্সা ভ্যান চালক ইউনিয়ন অফিসে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কেসিসির সহকারি প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কেসিসি এবং ওজোপাডিকো যৌথভাবে ব্যাটারি চার্জিং পয়েন্ট থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে ৩৮৭টি চার্জিং পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। কেসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খান মাসুম বিল্লাহের নেতৃত্বে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।

কেসিসির সচিব মোঃ আজমুল হক বলেন, ‘১৫ অক্টোবর রিকশা থেকে ব্যাটারি অপসারণের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে কেসিসি। কোন ধরণের আন্দোলনের হুমকি ধামকিতে কেসিসির পিছু হটার অবকাশ নেই। ১৫ অক্টোবরের পর নগরীতে রিকশা চলবে, তবে ব্যাটারি ছাড়া।’

অন্যদিকে আর মাত্র এক দিন বাকি থাকলেও রিকশা চালকরা মেয়রের নির্দেশনা আমলে নিচ্ছেন না। এমনকি কেসিসির বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে রিকশা থেকে ব্যাটারি খোলার তেমন কোনো সাড়াও মিলছে না।

কেসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আমিনুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘প্রতি নিয়তই রিকশার ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। তারপরও চালক-মালিকদের দাবির মুখে মেয়র তিন দফায় সময় দিয়েছেন। এরপরও যদি কেউ নির্দেশনা না মানে তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কেসিসি সূত্রে জানা যায়, প্রথম দফায় পহেলা জুলাই থেকে খুলনা নগরী ব্যাটারি চালিত রিকশামুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মানবিক দিক বিবেচনা করে তিন মাস বাড়িয়ে তা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করেন মেয়র। পরে কেসিসির বিশেষ সাধারণ সভায় আরো সময় বাড়িয়ে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু রিকশা মালিক-চালকরা মেয়রের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এর পেছনে নগরীর কোন কোন আ’লীগ নেতা সাহস যোগাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দৌলতপুর থানা রিকশা ভ্যান চালক ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতা লোকমান হোসেন বলেন, ‘তারা আজ থেকে নগরীর সকল রিক্সা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তারা খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহ উদ্দীন জুয়েলের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করবেন। একই সাথে ধর্মঘটও চলবে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার ফকির বলেন, আজ থেকে নগরীতে কোন রিকশা বের হবে না। সাথে সাথে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক বের হলে তা ভেঙ্গে দেওয়া হবে।


খুলনা/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন