ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নদীতে ভাসছে সম্প্রীতির কল্পজাহাজ

সুজাউদ্দিন রুবেল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৫ ৯:৩২:০২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৫ ১০:৫৭:৫১ এএম

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের শেষ দিন সোমবার বিকেলে রামুর বাঁকখালী নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাহাজ ভাসা উৎসব।

হাজার বছরের ঐতিহ্য আর শত বছরের সংস্কৃতির নিদর্শন এই জাহাজ ভাসা উৎসব। বাঁশ, কাঠ, বেত এবং রঙিন কাগজের উপর কারুকাজে তৈরি কল্পজাহাজ। আর এই জাহাজ ভাসানো উৎসবকে ঘিরে কক্সবাজারের রামুর বাঁকখালী নদীর তীর পরিণত হয় সকল ধর্মের মানুষের মিলনমেলায়।

আয়োজকরা রাইজিংবিডিকে জানান, এবারের জাহাজ ভাসা উৎসব সদ্য প্রয়াত পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরোকে উৎসর্গ করা হয়েছে। আর এই উৎসবের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরো দৃঢ় হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন।

সরজমিন উৎসবস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ-ছয়টি নৌকার উপর বসানো হয়েছে এক-একটি কল্পজাহাজ। রঙ-বেরঙের কাগজ আর বাঁশ-কাঠের অর্পূব কারুকাজে তৈরি হাতি, হরিণ, ঘোড়া, ঈগল, ময়ূর, বাঘসহ প্রতিটি জাহাজই নজরকাড়া। নির্মাণশৈলী আর বৈচিত্র্যে ভরা প্রতিটি জাহাজেই নানা বাদ্য বাজিয়ে চলছে নাচ আর গান। নদীতে ভাসতে ভাসতে জাহাজগুলো যাচ্ছে নদীর এপার থেকে ওপারে। মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উৎসব হলেও হিন্দু, মুসলিম এবং পর্যটকদের অংশগ্রহণে উৎসবস্থল হয়ে ওঠে সার্বজনীন।

জাহাজ ভাসা উৎসব দেখতে আসা সুকান্ত বড়ুয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘জাহাজ ভাসা উৎসব সত্যিই একটি প্রাণবন্ত উৎসব। এখানে না এলে বুঝতে পারতাম না কল্পজাহাজগুলো কতটা দৃষ্টিনন্দন হয়।’

দীপালি বড়ূয়া বলেন, ‘এই রামুকে বলা হয় বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িকতার রাজধানী। জাহাজ ভাসা উৎসবসহ সকল ধরনের উৎসব হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ও খ্রিস্টান সবাই সুন্দরভাবে মিলেমিশে একযোগে উদযাপন করি। এখনো আমরা সবাই নাচে গানে আনন্দে মাতোয়ারা।’  

রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, দুইশ বছর আগে পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে এ জাহাজ ভাসানো উৎসবের প্রচলন হলেও প্রায় শতবছর ধরে কক্সবাজারের রামুতে মহাসমারোহে এ উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এতে কক্সবাজার সহ পার্বত্য এলাকার লোকজনও সমাবেত হয়।

জাহাজ ভাসা উৎসবের আয়োজক রামু হাইটুপী যুব পরিষদ সভাপতি দুলাল বড়ুয়া জানান, এবারের জাহাজ ভাসা উৎসব সদ্য প্রয়াত পন্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরোকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

আর উৎসবে উপস্থিত কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, এই জাহাজ ভাসা উৎসবের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।

উল্লেখ্য, এবার বাঁকখালী নদীতে ভাসানোর জন্য রামু হাই-টুপি, শ্রীকুল, পূর্ব মেরংলোয়া, জাদী পাড়া, উত্তর মিঠাছড়ি, হাজারীকুল, উত্তর ফতেখারকুল, দ্বীপ শ্রীকুল, পূর্ব রাজারকুলসহ ১১টি কল্পজাহাজ তৈরি করা হয়। আর জাহাজ ভাসা উৎসব শেষে সন্ধ্যায় উড়ানো হয় শতাধিক ফানুস।



কক্সবাজার/সুজাউদ্দিন রুবেল/জেনিস

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন