ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সজিব হত্যাপ্রচেষ্টা মামলার আসামিদের অস্ত্রের মহড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৫ ১০:৪৮:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৫ ১০:৪৮:৪৪ পিএম

রাজশাহীতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ফিরোজ আহমেদ সজিব (২০) হত্যাপ্রচেষ্টা মামলার আসামিরা।  গত ২৩ সেপ্টেম্বর চাঁদার দাবিতে তাকে এলাপাতাড়ি কুপিয়ে যখম করে সন্ত্রাসীরা।

সজিবের ওপর হামলার পর তার মা ফেরদৌসী বেগম এ ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মহানগরীর রাজপাড়া থানায় একটি হত্যাপ্রচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু আদালত থেকে জামিন না নিয়েই এসব আসামি এলাকার মোড়ে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি আড্ডা দিচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। পুলিশের বক্তব্য, ‘এদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ’

রাজশাহী মেডিক‌্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দুই সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সাথে প্রাণপন লড়াই করে প্রাণে বেঁচে যাওয়া সজিব এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে এ সন্ত্রাসী বাহিনী। বাড়ির সামনে গিয়ে দিচ্ছে অস্ত্রের মহড়া। মামলা তুলে না নিলে আবারো হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামি লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান শাহীনসহ তার গ্রুপের সদস্যরা দীর্ঘদিন থেকে সজিবের নিকট চাঁদা দাবি করছিল। এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া আটটায় পার্শ্ববর্তী সুফিয়ানের মোড়ে শাহীনের নেতৃত্বে তার সহোদর তুহিন, নাঈম, গ্রুপের সদস্য জিমু, মামুন ও হৃদয়সহ অন্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সজিবের দোকানে হামলা চালায়।

সে সময় সন্ত্রাসীরা সজিবকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। সজিব বাধা দিলে তাকে তাকে হাঁসুয়া, পাসলি এবং চাপাতি দিয়ে উপুর্যপরি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে সজিব অটোরিকশা থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে তাকে অপহরণের উদ্দেশ্যে একটি বস্তা দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে আবারো কোপানো হয়। সে সময় সজিবের মামা নূর আলমসহ এলাকার লোকজন এগিয়ে গেলে এবং রাজপাড়া থানার একটি টহল পুলিশ ভ্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সে সময় তাড়া করে রায়হান নামের এক সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশ।

আহত সজিবের পিতা তাজ উদ্দিন বলেন, ‘শাহীনসহ তার তিন ভাইয়ের নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উছেছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৫-৭টি করে মামলা রয়েছে। সর্বশেষ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়ে আমার ছেলের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে সজিবকে উদ্ধারের পর তার জ্ঞান ছিল না। পেটে, পিঠে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত ছিল। এ ছাড়া ডান হাত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঝুলে গিয়েছিল। আমরা মনে করেছিলাম সে বাঁচবে না। কিন্তু রামেক হাসপাতালে দুই সপ্তাহ চিকিৎসা নেয়ার পর এখন বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় আছে। প্রায় ২২ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ আসামিদের ধরছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত তিনদিন আগে শাহীনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার বাড়ির সামনে মহড়া দিয়েছে। মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। যেকোনো সময় আবারো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছি। আর পুলিশ বলছে, আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ’

এ ব্যাপারে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘সজিব সংকটাপন্ন অবস্থায় রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে দেখতে যান। কিন্তু আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি- এ বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি। আসামিদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয় সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হবে। ’


রাজশাহী/তানজিমুল হক/সনি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন