ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বৃদ্ধকে নির্যাতন করে থানায় দিলেন চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৬ ৫:৪৩:৫৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৬ ৬:৫৯:৪৯ পিএম

ইউনিয়ন পরিষদের শালিস বৈঠকে হাজির হননি। এটাই অপরাধ। সেই অপরাধে এক বৃদ্ধকে ধরে এনে ইউনিয়ন পরিষদে সারাদিন আটকে রেখে নির্যাতন করেছেন। দিন শেষে তার উপর হামলার অভিযোগে বৃদ্ধকে থানায় সোপর্দ করেন ইউপি চেয়ারম‌্যান।

রংপুরের মিঠাপুকুরে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নে মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয় ভুক্তভোগী বৃদ্ধকে। বৃদ্ধের নাম দুলা মিয়া কেতু (৭৫)।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালুয়ামাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর চাঁদপাড়া গ্রামের মৃত মোন্নাফ মিয়ার ছেলে বাতেন মিয়া তার বসতবাড়ীর সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে  প্রতিবেশী দুলা মিয়া কেতুর (৭৫) বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক বিবাদী দুলা মিয়া কেতুকে ইউনিয়ন পরিষদে শালিস বৈঠকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু দুলা মিয়া কেতু শালিস বৈঠকে হাজির হননি।

এ অপরাধে ওই ইউপি চেয়ারম্যান চৌকিদার পাঠিয়ে দুলা মিয়া কেতুকে ধরে এনে দিনভর ইউপি অফিসে আটকে রাখেন। সে সময় তিনি কেতুকে নানাভাবে নির্যাতন ও মানসিকভাবে হয়রানী করেন।

পরে তার বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে চৌকিদার ও চেয়ারম্যানকে আক্রমণ করার মিথ্যা অভিযোগ এনে মিঠাপুকুর থানায় সোপর্দ করা হয়। পুলিশ বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় আটক দুলা মিয়া কেতুকে ছেড়ে দেয়।

দুলা মিয়া কেতু বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে অন্যায়ভাবে চৌকিদার দিয়ে ধরে নিয়ে ইউপি ভবনে আটকে রাখে। সে সময় আমাকে নানাভাবে হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হকের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মিঠাপুকুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টির স্থানীয়ভাবে মিমাংসার পরামর্শ দিয়ে বৃদ্ধকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ’


রংপুর/নজরুল মৃধা/সনি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন