ঢাকা, শনিবার, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৩ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ইঁদুর মেরে পুরস্কার: ইঁদুর নিয়ে তথ‌্যচিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৮ ৩:১৯:২৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৮ ৩:১৯:২৫ পিএম

রংপুর অঞ্চলে পৌনে ১০ লাখ ইঁদুর নিধন করে সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিকটন ফসল রক্ষা করায় বিভিন্ন ক‌্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতলেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর ও রংপুর সদর উপজেলার যৌথ আয়োজনে ঘটা করেই বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

শুধু তাই নয়, দিনটা জুড়েই ছিল ইঁদুর বধের নানা কৌশলের প্রদর্শনী, পাওয়ার পয়েন্টে ইঁদুরের জীবনচক্র থেকে শুরু করে ওগুলোর উপস্থিতির চিহ্নসহ নানা তথ‌্য জানানো হয়, ইঁদুর নিয়ে প্রামাণ‌্যচিত্রও দেখানো হয় ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী অনুষ্ঠানে  সভাপতিত্ব করেন।

রংপুর জেলার অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ মো. মাহবুবুর রহমান ফসলে ইঁদুর নিধন গুরুত্ব, প্রকৃতিতে ইঁদুরের বিচরণ, ইঁদুরের প্রকারভেদ ও বংশবৃদ্ধির ধরণ, বিভিন্ন ফসলে ইঁদুরের ক্ষতির ধরণ ও ক্ষতির পরিমাণ, ইঁদুরের উপস্থিতির চিহ্ন, ইঁদুর নিধনের প্রয়োজনীয়তা, নিধনের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ে ইঁদুর নিধন কৌশল সম্পর্কে  বিভিন্ন তথ্য পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন।  এরপর সহজে ইঁদুর নিধনের কৌশল সম্পর্কিত একটি প্রামান্য চিত্র দেখানো হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে অফিস প্রাঙ্গনের স্টলে ইঁদুরের দ্বারা বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির নমুনা ও ইঁদুর নিধনের বিভিন্ন ফাঁদ প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর জেলার উপ পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. সরওয়ারুল হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলার উপ পরিচালক কৃষিবিদ ড. এস.এম. ফেরদৌস,  রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আনোয়ার হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, বদরগঞ্জ উপজেলার উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায়, জয়রামপুর আনোয়ার কালিগঞ্জপাড়া সিআইজি কৃষক দলের সভাপতি মো. আজিজার রহমান, কৃষক প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. ইছারউদ্দিন।

কৃষি অফিস থেকে জানানো হয়, গত বছর রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৯ লাখ ৮২ হাজার ৮২৮টি ইঁদুর নিধন করে ৭ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন ফসল ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে।  প্রতি বছর উত্তরের ১৬ জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন আমন ধান ইঁদুরের কারণে কৃষকরা গোলায় তুলতে পারছে না কৃষকরা। যা আমনের মোট উৎপাদনের ৬ শতাংশ। প্রতি মৌসুমে গমের মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ, আলুর ৬ শতাংশ, শাক সবজির ৫ শতাংশ, নারিকেলের ১০ শতাংশ ও আনারসের ১০ শতাংশ ফলন ইঁদুর খেয়ে ফেলে। আর এসব বিবেচনায় রেখেই গেল বছর সফল ইঁদুর নিধনকারীদের পুরস্কার প্রদান ও এ বছরের মাসব্যাপী ইঁদুর নিধন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট ছাফিয়া খানম।

২০১৮ সালের ইঁদুর নিধনের জন্য কৃষক, উপসহকারী কৃষি অফিসার ও উপজেলা- মোট তিন ক্যাটাগরীতে পুরস্কার দেয়া হয়।

ইঁদুর নিধন অভিযান ২০১৮ এর জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এসএএও পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা  মো. জাকির হোসেন তাঁর শালাইপুর ব্লকে এক লাখ ঊনিশ হাজার চার শত ঊনত্রিশ টি ইঁদুর নিধন করে প্রথম পুরস্কার এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা  মো. এনামুল হক তাঁর শালটি গোপালপুর ব্লকে এক লক্ষ চৌদ্দ হাজার এক শত পঞ্চাশ টি ইঁদুর নিধন করে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মোনাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ হাজার পাঁচ শত পঁচিশ টি ইঁদুর নিধন করে তৃতীয় পুরস্কার পায়।

এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের জয়রামপুর আনোয়ার কালিগঞ্জ পাড়া সিআইজি কৃষক দল ত্রিশ হাজার দুই শত পঁচাশি টি ইঁদুর নিধন করে প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছে।

জেলা ভিত্তিক সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইঁদুর নিধন করে রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মো. চাঁন মিয়া, কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার মো. ইছার আলী, লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মো. জহিরুল ইসলাম এবং নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার মো. আব্দুল জলিল পুরস্কার লাভ করেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পর্যায়ে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জনাব মো. তারেকুজ্জামান মন্ডল তাঁর ব্লকে আটত্রিশ হাজার এক শত চুয়াল্লিশ টি ইঁদুর নিধন করে প্রথম পুরস্কার, নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার মো. মনিরুজ্জামান দ্বিতীয় পুরস্কার এবং নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার মো. জোবায়দুল ইসলাম তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।

জানা গেছে, ইঁদুরের অত্যাচার থেকে ফসল বাঁচাতে ৭০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইঁদুর নিধন শুরু হয়। তবে সরকারীভাবে ১৯৮৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে এই ইঁদুর নিধন অভিযান শুরু হয়। কিন্তু কার্যকরভাবে ইঁদুর নিধন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মোট উৎপাদনের একটি উল্লেখ্যোগ্য অংশ ইঁদুরের পেটে চলে যাচ্ছে।


রংপুর/নজরুল মৃধা/সাজেদ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন