ঢাকা     রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭ ||  ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

নদী খননের মাটিতে আটকে গেছে স্কুলের লেখাপড়া!

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৩৫, ২১ অক্টোবর ২০১৯  

নদী খননের মাটিতে আটকে গেছে স্কুলের লেখাপড়া, বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলের শিক্ষার্থীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের পানি পান।

খবরটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চিকসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ওই স্কুলের পার্শ্ববর্তী বৌলাই নদীতে খনন চলছে।

নদী খননের সেই মাটিতে বারান্দা চাপা পড়ায় স্কুলের দরজা খোলা যাচ্ছে না। ক্লাস নিতে পারছেন না শিক্ষকরা। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস রুমের দরজা খুলতে না পারায় এখন বন্ধ পাঠদান। এদিকে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলটি নদী খননের মাটিতে চাপা পড়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আশপাশের লোকজন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসরুম বন্ধ। ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে না পেরে বাড়িতে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন।

পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর স্কুলটিতে পাঠদান করছেন পাঁচজন শিক্ষক। স্কুলের পাশে খাল থাকায় বছরে ৬ মাস পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারে না। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে সরকারি নদী খননের মাটি দিয়ে খাল ভরাট করাতে গিয়ে ড্রেজিংয়ের লোকজনের গাফিলাতির কারণে মাটিতে মাটিতে সব একাকার। দরজা, ক্লাস রুম ও টিউবওয়েল সবই চাপা পড়েছে মাটিতে।

স্থানীয়রা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, নদী খননরত অটিবিএল ড্রেজিং কোম্পানির প্রতিনিধি রাজু আহমেদ ও সোহেলকে এলাকাবাসী সতর্ক করেছেন- যেভাবে স্কুলের মাঠে মাটি ফেলানো হচ্ছে এতে করে দরজা খোলা যাবে না। তারা কোন কথা রাখেননি। বর্তমানে স্কুলটির দুই তলা ভবনের নিচের তলার তিনটি ক্লাস রুমের দরজা মাটিতে বন্ধ হয়ে আছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন জানায়, নদী খননের বালু মাটি ঢুকে তারা ক্লাস করতে পারছে না। ক্লাসের মধ্যে বালু আর পানিতে ভরা।

চিকসা গ্রামের বাবুল চৌধুরী জানান, স্কুলের একটি টিউবওয়েল ছিল সেটাও নদী খননের মাটিতে ভরে গেছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ আশেপাশের বাড়ীগুলো এখন পানির ভোগান্তিতে আছে।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শনিবার সন্ধায় বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন যে পরিমাণ মাটি ফালানোর কথা তা হয়ে গেছে। ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য নিয়ে গেলাম ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের কাছে। কোনো কাজ হয়নি। প্রধান শিক্ষক ও আমি রাতে অটিবিএলের প্রতিনিধি রাজু আহমদকে ফোন দেই তিনি বলেন ঢাকায় আছেন। সকালে উঠে দেখি স্কুলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ও চতুর্থী শ্রেণির ক্লাশের দরজা মাটিতে বন্ধ। চাপা পড়েছে স্কুলের টিউবওয়েলটিও।’

এ ব্যাপারে অটিবিএলের প্রতিনিধি রাজু আহমদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমি ঢাকাতে ছুটিতে আছি। ঢাকা থেকে এসে স্কুল কতৃপক্ষের সাথে বসে বিষয়টি দেখব। স্কুলের স্বার্থে যা যা করা লাগে করব।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, ‘আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলেছি সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। প্রতিবেদন আসলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান জানান- বিষয়টি তিনি শুনেছেন, সরজমিনে দেখতে যাবেন।

 

সুনামগঞ্জ/ আল আমিন/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়