ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নির্মাণ শেষ, তবু আড়াই বছর ধরে তালাবদ্ধ

বাগেরহাট সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২২ ১:৫১:৪৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২২ ১:৫২:০৮ পিএম

নির্মাণ কাজ শেষ ও ভবন হস্তান্তরের পর আড়াই বছর পার হলেও শুরু হয়নি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কার্যক্রম।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের স্বেচ্ছাচারিতায় চেয়ারম্যানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনসেড একটি কক্ষে কোনমতে চলছে পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম। মূল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়, তাই সেবা বঞ্চিত হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে চেয়ারম্যান বলছেন, নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও পরিষদের সকল সদস্যের সম্মতিতে তার বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে পরিষদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পরিষদের ভবন নির্মাণকারী সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ জুলাই মাসে এই ভবনটি নির্মাণ শুরু হয়। তিন তলা ভবনের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা। কাজ সম্পন্ন করে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে ভবন হস্তান্তর করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নারকেল বাড়িয়া বাজারের সংলগ্ন চারটি গ্রামীণ রাস্তার মিলনস্থলে তিনতলা বিশিষ্ট এই সুউচ্চ ভবন। ভবনের উপরে চিলেকোঠায় লেখা চিংড়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। নিচতলা ফাঁকা। দোতলা ও তিন তলার কক্ষগুলো তালাবদ্ধ।

স্থানীয় কিছু লোকের সাথে কথা হয় আমাদের। তারা জানান, পরিষদের চেয়ারম্যান আক্কাস আলী বুলু ধরাধোয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। যার ফলে নিজস্ব সুবিধার জন্য তিনি তার বিদ্যালয়ের পাশে ধরাধোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করেছেন। যেখানে তিনি পরিষদের সব ধরণের কাজ করে থাকেন। যার ফলে আমাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নাছির হাওলাদার বলেন, ‘চেয়ারম্যান তার স্কুলে পরিষদ নিয়ে গেছে। পায়ে হেঁটে দুই আড়াই কিলো রাস্তা আমাদেরকে কষ্ট করে যেতে হয়।’

চিংড়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বেলায়েত হাওলাদার বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরে আমরা চেয়েছিলাম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পরিষদে আসবেন। আমাদের প্রয়োজন দেখবেন, সুবিধা অসুবিধায় পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু পরিষদের এত বড় ভবন থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্যদের নিয়ে তার স্কুলে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অস্থায়ী কার্যালয় করেছেন। এটা আমাদের হতাশ করেছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান আলী আক্কাস বুলু বলেন, ‘২০১৬ সালে আমি নির্বাচিত হওয়ার পরে দুর্বৃত্তরা আমার উপর হামলা করে। এরপর থেকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। দীর্ঘদিন ঢাকায় চিকিৎসা গ্রহণ শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরি। আমার শারীরিক অক্ষমতা ও নিরাপত্তার অভাবে পরে পরিষদের সকল সদস্যের সম্মতিতে আমার বিদ্যালয়ের পাশের একটি ভবনে ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় করি। সেভাবেই চলছে।’


বাগেরহাট/আলী আকবর টুটুল/টিপু

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন