ঢাকা, শুক্রবার, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

খুলে দেয়া হলো সিলেটের ক্বিন ব্রিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-২৩ ১:০৩:৪৩ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-২৩ ১১:১৫:১২ এএম

দীর্ঘ ৫২দিন পর শর্তসাপেক্ষে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ক্বিন ব্রিজ। এজন্য মঙ্গলবার রাতেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে ব্রিজের দুই প্রান্তের পথ আটকানো লোহার গ্রিলও। তবে কোন ইঞ্জিনচালিত যান এ ব্রিজ পাড়ি দিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ব্রিজে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। এসময় উভয় প্রান্তের ফটকে লোহার রড দিয়ে পথও বন্ধ করা হয়। তবে যান চলাচল বন্ধ রাখলেও পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য অবমুক্ত ছিল ব্রিজটি। মেয়রের এ উদ্যোগ বেশ বাহবাও কুড়িয়েছিল। এমনকি সিলেট সফররত বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন  রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারও তার উদ্যোগের প্রশংসা করেছিলেন।

তবে শুরু থেকেই দক্ষিণ সুরমার সিসিকের ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সেতুটিতে যানচলাচল বন্ধের বিরোধীতা করে আসছিলেন। এমনকি তাদের সাথে একাত্ব হয়ে মেয়র আরিফের বিরোধিতা করছিলেন সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানও। তারা মেয়রকে ব্রিজ খুলে দিতে আল্টিমেটামও বেধে দিয়েছিলেন।

একই সাথে সম্প্রতি তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন। তাদের দাবি- ক্বিন ব্রিজ বন্ধ থাকার কারণে দক্ষিণ সুরমা থেকে যে সকল শিক্ষার্থী উত্তর সুরমা তথা নগরের অভ্যন্তরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে, তাদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও বেশ ক্ষয়ক্ষতিতে পড়ছে বলেও দাবি করেন তারা। এসব ভোগান্তি নিরসনে রিক্সা, মোটরসাইকেল ও ভ্যানগাড়ি চলাচলের জন্য এ ব্রিজ খুলে দেয়ার দাবি তুলেছিলেন তারা।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে ব্রিজের দুই ফটকের লোহার গ্রিল সরিয়ে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন শিহাব। তিনি আরও জানান, ‘এ ব্রিজটি রিক্সা, বাইসাইকেল ও ভ্যান গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। তবে সকল ধরণের ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এজন্য উভয় প্রান্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর থাকবে বলেও জানান তিনি।’

ক্বিন ব্রিজ সিলেট শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর উপর স্থাপিত লৌহ নির্মিত সেতু। এটি সিলেটের অন্যতম দর্শনীয় এবং ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। দেশে-বিদেশে সিলেটের পরিচিতি তুলতে ধরতে এ সেতুর ছবি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি সিলেট শহরের প্রবেশদ্বারও।

ধনুকের মতো বাঁকানো ক্বীন ব্রিজের দৈর্ঘ ১১৫০ ফুট এবং প্রস্থ ১৮ ফুট। ১৯৩৩ সালে তৎকালীন রেলওয়ে বিভাগ এ সেতুটি নির্মাণ করে। প্রায় ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শেষে ১৯৩৬ সালে ব্রিজটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। আসাম প্রদেশের ইংরেজ গভর্ণর মাইকেল ক্বীনের নামে ব্রিজের নামকরণ করা হয় ক্বিন ব্রিজ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ব্রিজের উত্তর প্রান্তের একাংশ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় পাক হানাদার বাহিনী। স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় ব্রিজের বিধ্বস্ত অংশ কংক্রীট দিয়ে পুনঃনির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল করছে।
 

সিলেট/আব্দুল্লাহ আল নোমান/নাসিম

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন