ঢাকা, বুধবার, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বুলবুলের সংকেতে সিডর আতংকে উপকূল

বরগুনা প্রতিনিধি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৮ ২:২৮:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৮ ৮:২৫:১০ পিএম

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। আকাশ ভারি মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে রাত থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি অব্যহত রয়েছে।

এদিকে নভেম্বরের সিডরের ভয়াবহতার শিকার উপকূলীয় বরগুনা জেলার মানুষের মধ্যে ‘বুলবুলের’ খবরে আতংক বিরাজ করছে। তবে দুর্যোগ মোকাবেলায় থেকে সব ধরণের প্রস্ততি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ‘বুলবুল’ আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বরগুনার নদ-নদীগুলোর পানি না বাড়লেও স্বাভাবিকের চেয়ে ক্রমশ উত্তাল হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

উপকূলীয় ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধূরি জানিয়েছেন, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সাগর ও নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলাগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার বার্তা দেয়া হয়েছে। বাঁধের কাছাকাছি এলাকাগুলোর বাসিন্দারা ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্ততি নিতে শুরু করেছে।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বরগুনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর উপর সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হেনেছিল।

বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম কবির জানান, সিডরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নলটোনার সাধারণ মানুষ ঘূর্নিঝড় বুলবুলের খবর শুনে কিছুটা আতংকে রয়েছে। তবে তাদের সব ধরণের প্রস্ততির জন্য সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ঢলুয়া ইউনিয়নের বরইতলা এলাকার বিষখালি তীরের বাসিন্দা জয়নাল মিয়া বলেন, ‘মোগো একছের ডরে দরছে, সিডরের নাহান আবার ঘর বাড়ি উড়াইয়া নেলে মোগো উপায় থাকপেনা কোনো। কি যে হরুম আনে কইতে পারিনা’।

কালমেঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ কুপদোন এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহিন মিয়া জানান, বিষখালি তীরের কালমেঘা বাজারের দক্ষিণ দিকে প্রায় এক কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের অর্ধেকেরও বেশি ভাঙনে বিলীন। এলাকার সাধারণ মানুষ ঝড়ের খবরে খুবই আতংকিত। ইউনিয়ন পরিষদের ঘূর্ণিঝড় প্রস্ততি কমিটি ইতোমধ্যেই প্রস্ততি গ্রহন করে জনগণকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পরামর্শ দিয়েছে। আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলকার ও একই অবস্থা। পায়রার ভাঙনে বিলীন বাঁধের পাড়ের বাসিন্দারা আতংকে রয়েছেন।

ঘূর্নিঝড় প্রস্ততি কর্মসূচি বরগুনা সদর উপজেলার দলনেতা জাকির হোসেন মিরাজ বলেন,  ‘আমাদের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্ততি নেয়া হয়েছে।  ইতোমধ্যে সবগুলো ইউনিটকে প্রস্ততি নিয়ে প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মত আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে সহায়তার জন্য বলা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনসহ সবগুলো ইউনিটকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, ‘বুলবুল’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

পূর্বাভাসে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে উত্তর উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। যা ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের ধারণা, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এখন যেভাবে এগোচ্ছে তাতে করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের খুলনা ও বরিশাল উপকূলের দিক দিয়ে আঘাত হানতে পারে। তবে এর গতিবেগ বা শক্তি সিডরের মতো হবে না। বুলবুলের কারণে বাতাসের গতিবেগ ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা বেশি। এটি ৯ নভেম্বর রাতে অথবা ১০ নভেম্বর সকালের দিকে উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

 

বরগুনা/রুদ্র রুহান/শাহেদ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন