ঢাকা, শুক্রবার, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

সাইক্লোন শেল্টারে যেতে মাইকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৯ ১১:৪৩:৪৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৯ ৩:০৮:১৬ পিএম

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ খুলনা উপকূলের যতই কাছে আসছে, ততই আতঙ্ক বাড়ছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। তাই এসব এলাকার বাসিন্দাদের  সাইক্লোন শেল্টারে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। 

শনিবার সকাল থেকে সুন্দরবন উপকূল সংলগ্ন খুলনার কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ উপজেলায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে। 

স্থানীয়দের স্ব স্ব এলাকার সাইক্লোন সেন্টারে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসন ও স্বেচ্ছাবেকরাও উপকূলবাসীকে সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে বেশ তৎপর রয়েছে।

তবে, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কেউ সাইক্লোন সেন্টারে যাননি। কেউই নিজ আঙ্গিনা ছেড়ে যেতে রাজি হচ্ছে না। জেলায় প্রস্তুত রাখা ৩৪৯ সাইক্লোন সেন্টারে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫০ জনকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

অপরদিকে, খুলনা মহানগরসহ সকল উপজেলায় শুক্রবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি শনিবার পর্যন্ত একটানা চলছে। বৃষ্টিতে শহর-গ্রামের জনজীবনে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. ইমরুল কায়েস, কয়রা উপজেলা কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাফর রানা ও উপজেলা কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ শেখ আব্দুল কাদের রাইজিংবিডিকে জানান, শনিবার সকাল থেকেই উপজেলাবাসীকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। স্থানীয়দের স্ব স্ব এলাকার সাইক্লোন সেন্টারে যেতেও অনুরোধ করা হচ্ছে। তবে, সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কেউ সাইক্লোন সেন্টারে যায়নি।

কয়রা থেকে স্থানীয় সংবাদকর্মী শহীদুল্লাহ শাহীন রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শনিবারও উপজেলায় অব্যাহত রয়েছে। কোন ঝড়ো হাওয়া বা জলোচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। যে কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও সাইক্লোন সেন্টারমুখী হচ্ছেন না। তবে, অবস্থা বিবেচনা করেই তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে, শুক্রবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ছুটি বাতিল এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকলকে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। সভায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষতি এড়াতে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, খুলনা জেলা সদরসহ নয় উপজেলায় ১০ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় বাসিন্দাদের আশ্রয় দিতে সরকারি-বেসরকারি ৩৪৯ সাইক্লোন শেল্টারও প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্দেশ পাওয়ামাত্রই স্থানীয় জনগণকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকতেও বলা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলার নয় উপজেলায় ৩৪৯ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রতি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত মেডিক্যাল টিম।

রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদী তীরবর্তী শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবনগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় জেলেদেরকে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত ও চরে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে আসার জন্য বলা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা কয়রা-পাইকগাছা-দাকোপ-বটিয়াঘাটায় সবাইকে নিরাপদে থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত খুলনার সকল ট্যুর অপারেটরদের সুন্দরবনের রাসমেলার উদ্দেশ্যে নৌযান না ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

খুলনা জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র প্রভাবে খুলনাঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ‘বুলবুল’ খুলনা অতিক্রম করতে পারে।

 

খুলনা/নূরুজ্জামান/বুলাকী

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন