ঢাকা, শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কৃষি বিভাগের নজর কম ছোট কমলাবাগানে

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৭ ৮:৩৬:৫৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৮ ৩:২৬:৩৯ পিএম

মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি কমলার চাষ হয় জুড়ী উপজেলায়। ছোট-বড় টিলার ঢালে হাজার হাজার কমলাগাছ। উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের রূপাছড়া, লালছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া, কচুরগুল এলাকা কমলার জন্য বিখ্যাত।

এবার কমলার ফলন ভালো হয়েছে। তাই চাষিদের খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু তারা পুরোপুরি খুশি নন। কারণ, গান্ধি পোকাসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণে কমলার বেশ ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে নানা সমস‌্যা। এসব সমস‌্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু চাষিরা অভিযোগ করছেন, কৃষি কর্মকর্তারা বড় বাগান ছাড়া ছোট বাগানগুলোতে যান না। যোগাযোগ করেও তাদেরকে পাওয়া যায় না।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১৭৮ হেক্টর জমিতে ১৪৬টি কমলাবাগান আছে। কমলাচাষি আছেন ১৪৬ জন। সবচেয়ে বেশি কমলা চাষ হয় জুড়ী উপজেলায়, ৯২ হেক্টর জমিতে। বড়লেখায় ৬০ হেক্টর ও কুলাউড়ায় ২০ হেক্টর জমিতে কমলা চাষ।

গত বছর প্রতি হেক্টরে কমলার উৎপাদন ছিল চার থেকে সাড়ে চার টন। এ বছর প্রতি হেক্টরে ৬ টন কমলা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

ধুমাবাড়ী এলাকার কমলাচাষি আব্দুল কালাম বলেন, আমার বাগানে ২০০-৩০০ গাছ আছে। কমলার মৌসুমে বড় বড় বাগানগুলোতে কর্মকর্তারা যান, কিন্তু আমাদের বাগানে আসেন না। কৃষি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা আসেন না।

স্থানীয় কমলাচাষি খোরশেদ আলম রাইজিংবিডিকে বলেন, আমার বাগানে ১ হাজার কমলা গাছ আছে। যাদের পরিচয়পত্র ছিল তাদেরকে বিভিন্ন রোগের ওষুধ এবং সার দেয়া হতো। মৌসুমের শুরুতে চাষিদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হতো। কমলাচাষি হিসেবে আমারও পরিচয়পত্র আছে, কিন্তু এখন আমরা তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পাই না। তারা পরিদর্শনে আসেন শুধু বড় দুই-একটি বাগানে। আমাদের কোনো খোঁজ নেয়া হয় না।

 

 

ধুমাবাড়ী এলাকার আরেক কমলাচাষি শফিক উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় যেসব কমলাবাগান আছে সেসব ছোট ছোট। কোনো বাগানে আছে ৫০-৬০টি, কোন বাগানে ১০০-১৫০টি কমলাগাছ। কোনো কোনো বাগানে তার চেয়ে বেশি কমলাগাছ আছে। আমাদের এলাকায় কৃষি অধিদপ্তর থেকে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই। সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন লালছড়া এলাকার কমলাচাষিরা। তাদের কমলাবাগান বড়, তাই। এখানে কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা আসেন না।

কয়েকজন চাষি বলেন, আগে কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা কোনো সভার আয়োজন করলে চিঠির মাধ্যমে জানাতেন আমাদের। এখন অনেককে চিঠি পর্যন্ত দেয়া হয় না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি।

তারা বলেন, কৃষি অধিদপ্তর যেভাবে বড় বাগানের মালিকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তেমনই আমাদেরকে পরামর্শ দিলে কমলার চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে। আমরা যদি কমলার রোগবালাই আর পোকামাকড় দমনের সঠিক ওষুধ ব্যবহারের উপায় না জানি, খুব শিগগিরই এই অঞ্চল থেকে কমলা চাষ চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। ঐতিহ্য হারাতে পারে কমলা চাষের জন্য দেশজুড়ে খ্যাতি পাওয়া এই অঞ্চলটি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, পুরনো বাগানের গাছগুলোতে অনেক ধরনের রোগবালাই হয়। এ কারণে যাতে কমলার কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য কৃষক ভাইদের আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে থাকি।

অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, জেলায় দেড় শতাধিক কমলাবাগান আছে। আমাদের লোকবল কম থাকায় অনেক বাগানে আমাদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয় না।

আরো পড়ুন :

হেমন্তের বাতাসে ছড়ায় কমলার ঘ্রাণ

কমলার শত্রু গান্ধি পোকা

 

মৌলভী‌বাজার/সাইফুল্লাহ হাসান/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন