ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

স্বামী-সংসার-বিদেশ, কোথাও সুখ মেলেনি সুমির

মো. আবু নাঈম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৮ ৮:৫০:০৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২২ ৫:২২:৩৯ পিএম

মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোরী সুমি আক্তার। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ে। অভাবের সংসারে চার ভাই-বোনের মধ্যে বড় হওয়ায় সুমি বাধ্য হয় রোজগারের পথ বেছে নিতে। পড়ালেখার ইতি ঘটিয়ে পাড়ি জমায় ঢাকার উদ্দেশে। সেখানে আশ্রয় হয় মামা হাসান আলীর বাসায়। সেখান থেকে সুমি কাজ নেয় একটি পোশাক কারখানায়।

চাকরিসূত্রে পরিচয় হয় আশুলিয়ার চারাবাগ মাদ্রাসা রোড এলাকার হাজী ইব্রাহিমের ছেলে নুরুল ইসলামের সঙ্গে। এরপর থেকে নুরুল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন সুমিকে। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সুমিকে অপহরণও করেন নুরুল। একাধারে সাত দিন শারীরিক নির্যাতনের পর বাধ্য হয় নুরুলকে বিয়ে করতে।

সুখের সংসার করা হয়নি সুমির। বিয়ের পরে জানতে পারেন এর আগে একইভাবে তিনটি বিয়ে করেছেন নুরুল। রয়েছে একাধিক সন্তানও। তখন আর কী করার ছিল সুমির? সব কিছু মেনে নিয়ে সুমি স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন সুখী সংসার জীবনের।

কিন্তু এখানেও বিধিবাম, বছর না ঘুরতেই স্বামী নুরুল ইসলাম ট্রাভেল এজেন্সি রূপসী বাংলা ওভারসিজের সঙ্গে যোগসাজশ করে কৌশলে সুমিকে বিক্রি করে দেয় সৌদি কফিলের (নিয়োগ কর্তা) কাছে। সৌদি পৌঁছার পর থেকে শুরু হয় ১৭ বছর বয়সী সুমির উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

রোববার দুপুরে পঞ্চগড়ে সুমির বাবার বাড়িতে গেলে তিনি এই গল্প শোনান রাইজিংবিডির সংবাদদাতাকে। সুমি বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বৈরাতি সেনপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে।

সম্প্রতি ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সৌদি আরবে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান সুমি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সুমি বলেন, ‘আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরতে চাই। আমাকে আমার পরিবারের কাছে নিয়ে যান। এখানে আমার ওপর অনেক নির্যাতন হয়। আর কিছু দিন থাকলে হয়ত মরেই যাবো’। 

খবর প্রকাশের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সুমিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে তার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সিরাজুল ইসলামকে নির্দেশ দেন।

এরপর গত ৪ নভেম্বর রাতে সুমিকে সৌদি আরবের জেদ্দার দক্ষিণ নাজরান এলাকার কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সৌদি পুলিশের তত্ত্বাবধানে একটি সেইফ হোমে রাখা হয়। পর দিন জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে দেয়া এক চিঠিতে সুমি আক্তারকে দেশে ফেরাতে ট্রাভেল এজেন্সি রূপসী বাংলা ওভারসিজকে ২২ হাজার রিয়াল (প্রায় পাঁচ লাখ টাকা) ও প্লেনের টিকিট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। পরে নাজরান শহরের শ্রম আদালত সুমিকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়। গত শুক্রবার সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন সুমি।

সুমির বাবা রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মেয়েকে সৌদি পাঠানো হয়েছে, তিনি তা অনেক পরে জানতে পারেন। আগে জানলে কখনোই যেতে দিতেন না।

তিনি বলেন, সুমি বর্তমানে অসুস্থ। সাধ্যমত তার চিকিৎসা করছেন। 



পঞ্চগড়/বকুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন