ঢাকা, রবিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, ভারত পালানোর পথে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২১ ১০:৫৭:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২২ ৯:৩৩:৩৪ এএম

বাঁশে ঝুলানো অবস্থায় হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হচ্ছে ৩৫ বছর বয়সী গিয়াস উদ্দিনকে। এ সময় তার আত্মচিৎকারেও মন গলেনি নির্যাতনকারী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুস সালামের। সিলেটের সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নে ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি।

বুধবার রাতে বেধড়ক মারধরের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। মূহুর্তে তা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও নজরে এলে নির্যাতনের শিকার যুবককে খুঁজে বের করে মামলা করানোর জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম।

বৃহস্পতিবার সকালে নির্যাতনের শিকার গিয়াস উদ্দিন জকিগঞ্জ থানায় মামলা (নং-২৪/ তারিখ-২১/১০/২০১৯) করেন। সন্ধ্যায় মামলার প্রধান আসামি আব্দুস সালামকে কানাইঘাট উপজেলার কাড়াবাল্লা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি সীমান্ত দিয়ে ভারত পালিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এ ঘটনায় আরো তিনজনকে আগে গ্রেপ্তার করা হয়। 

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. আব্দুন নাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কাজলশার ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্যও বলে জানান ওসি।

তিনি এও বলেন, নির্যাতনের ঘটনা প্রায় ১০ মাস আগের। তখন পুলিশকে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি, বা অভিযোগও আসেনি। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ সুপারের নজরে এলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য বলেন এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে মামলা করাতে বলেন।

সালাম মেম্বার ছাড়াও এ পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন এবাদ, আনোয়া ও শাহজাহান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হওয়া ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পা বেঁধে একটি বাঁশের সঙ্গে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এক যুবককে। ওই বাঁশ দুই ব্যক্তি কাঁধে নিয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে আছেন। এরই মধ্যে সাদা শার্ট ও লুঙ্গি পরা সালাম লাঠি দিয়ে যুবকের পায়ের নিচে আঘাত করেন। ওই যুবক চিৎকার করে কান্না করছিলেন আর তাকে না মারার জন্য বলছিলেন। এরপরও সালাম তাকে মেরেই যাচ্ছিলেন।


সিলেট/আব্দুল্লাহ আল নোমান/বকুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন