ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

না’গঞ্জে চাঁদার জন‌্য ব‌্যবসায়ীকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০২ ১০:০৫:২০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০২ ১০:১০:১২ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে ইউছুফ (৪৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে এনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত নেতা বলেছেন, কেবল সমঝোতা করার জন‌্য তাকে আনা হয়েছিল, পরে মীমাংসার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আদমজী ইপিজেড থেকে ওই ব‌্যবসায়ীকে তুলে এনে সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল আলী হোসেন আলা তার কার্যলয়ে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।  ব‌্যবসায়ীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর আলী হোসেন ওই ব্যবসায়ীকে নিজেই মারধর করেন এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।

আজ সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার শিল্পনগরী আদমজী ইপিজেডের ভেতরে টিএনএস বাটন কারখানার সামনে থেকে ওই ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া হয়।

পরে কাউন্সিলরসহ তার লোকজন ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে ছেড়ে দেন। এসময় তার মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন কাউন্সিলর নিজেই। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী ইউছুফ বাদি হয়ে সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে অভিযুক্ত নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলী হোসেন আলা দাবী করেছেন, তিনি ব্যবসায়ী ইউছুফকে তার লোকজন দিয়ে তুলে এনে সমঝোতা করে ছেড়ে দিয়েছেন।

চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে কাউন্সিলর আলী হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর তাকে আসতে বলা হয়েছে। সে আসলে তার মোবাইল ফোন ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা দাবী করেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন যাবত আদমজী ইপিজেড অভ‌্যন্তরের টিএনএস বাটন কারখানায় ব্যবসা করে আসছিলেন। কয়েকদিন আগে ইউছুফ ওই টিএনএস বাটন কারখানায় ব্যবসা করার জন্য কোটেশন দিয়ে আমার ব্যবসা নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তাই ইউছুফকে আমার লোকজন তুলে এনে সমঝোতা করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে ব্যবসায়ী ইউছুফ জানান, টিএনএস বাটন কারখানা কর্তৃপক্ষ কোটশেন আহ্বান করলে তিনি নিয়মমাফিক কোটেশন দাখিল করে বৈধভাবে কাজ পান। কর্তৃপক্ষ তাকে কাজ দিয়েছেন, তাই তিনি ওই কারখানায় ব্যবসা করে আসছিলেন। হঠাৎ সোমবার বিকেলে ওই কারখানার সামনে থেকে ৩টি মোটর সাইকেলে করে শাহজাহান, হারুন, নজরুলসহ ৬ জন লোক তাকে জোর করে মোটর সাইকেলে করে তুলে নিয়ে সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলী হোসেন আলার কার্যালয়ে নিয়ে নিয়ে যান।

ব্যবসায়ী ইউসুফ জানান, “সেখানে ছিলেন কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা। এসময় কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা তাকে বলে, ‘আমি কাউকে পরোয়া করিনা। ইপিজেডে ব্যবসা করতে হলে আমাকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে।’

এ কথা বলেই কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা ও তার লোকজন ইউছুফকে কিল-ঘুষি মেরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ফারুক অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এক ব্যবসায়ী তাকে মারধর করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি যে-ই হয়ে থাকেন না কেন, ছাড় দেয়া হবে না।


নারায়ণগঞ্জ/হাসান উল রাকিব/সাজেদ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন