ঢাকা     বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭ ||  ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুত গাছিরা

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:১৮, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯  
খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুত গাছিরা

দক্ষিণের জেলা ঝালকাঠিতে শীতের হাওয়া লাগতে শুরু করেছে। য়ার শীতের এই মৌসুমে খেজুর রস আহরণে খেজুর গাছ  প্রস্তুত করতে শুরু করেছে গাছিরা।

জেলার গাছিরা হাতে দা নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ পরিষ্কার ও হাঁড়ি বসানোর কাজ করছেন।

কয়েকদিন পর থেকেই খেজুরের রস আহরণ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন ঝালকাঠির গাছিরা। তৈরি হবে নানা রকমের পিঠা-পায়েস।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায়  ইতোমধ্যে গাছিরা খেজুর গাছ পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। অল্পদিনের মধ্যেই রস বের করে গ্রামের ঘরে ঘরে শুরু হবে গুড়-পাটালি তৈরির উৎসব।

গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা, পায়েশ, মুড়ি-মুড়কি ও নানা রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়বে। সকালে এবং সন্ধ্যায়  কাঁচা রস খেতে খুবই মজদার। রসে ভেজানো চিতই পিঠার স্বাদই আলাদা।

জানা গেছে, একসময় ঝালকাঠি খেজুর রস ও গুড়ের জন্য বিখ্যাত ছিল। খেজুর গাছের রস থেকে উৎপাদিত গুড়ের চাহিদা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিল। এসব এলাকার হাট-বাজার থেকে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি গুড় দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হতো।

গ্রামবাংলার সে ঐতিহ্য আজ অনেকটা বিলুপ্তির পথে। কারণ ১ কেজি গুড় বানাতে শ্রম ও জ্বালানিসহ গাছিদের খরচ হয় ৪০-৫০ টাকা। আর প্রতিকেজি গুড় বর্তমান বাজারে বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। যে কারণে গাছিরা গুড় বানাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

এছাড়া আগের মতো খেজুর গাছও নেই। প্রতিদিন ইটভাটায় জ্বালানির কাজে নিধন হচ্ছে এলাকার শতশত খেজুর গাছ। ফলে এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারপরও গাছিরা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঝালকাঠির নবগ্রাম ইউনিয়নের গাছি মোতালেব হোসেন বলেন,‘ আমরা খেজুর গাছ প্রস্তুত করছি রস সংগ্রহের জন্য। এই কাজে আগের মত আর লাভ হয়না আমাদের।’

 

ঝালকাঠি/অলোক সাহা/জেনিস

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়