ঢাকা, শনিবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কলেরার প্রকোপ: ৭৭ রোহিঙ্গাসহ ১৩৩ জন শনাক্ত

কক্সবাজার প্রতিনিধি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-০৪ ৯:৫২:২৩ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-০৪ ৯:৫২:২৩ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় কলেরা রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। শনাক্ত করা হয়েছে ১৩৩ জন কলেরা রোগী; যার মধ্যে স্থানীয় ৫৬ জন, আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭৭ জন।

বুধবার সন্ধ্যায় জেলা ইপিআই স্টোর কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, উখিয়া-টেকনাফে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন ৫ম বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চেয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠী বেশি থাকবে ওসিভি ক্যাম্পেইনের আওতায়।

এবারের ক্যাম্পেইনে কলেরা টিকা খাওয়ানো হবে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫ জনকে। এরমধ্যে উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠী ৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ জন আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৮৮ জন। স্থানীয়দের ক্ষেত্রে এক বছরের ঊর্ধ্বে সকল বয়সী লোকজন আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে শুধু ১ থেকে ৫ বছরের শিশুরা ওসিভি টিকা পাবে।

উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে টিকা খাওয়ানো ৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টিকা খাওয়ানো ৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ১৪ ডিসেম্বর।

সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়ক ডা. জামশেদ বলেন, সর্বশেষ ওসিভি ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৭ নভেম্বর। সেই ক্যাম্পেইনের আওতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ছিল বেশি। আর রোহিঙ্গা শিবিরের আশপাশের কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় কিছু সংখ্যক লোকজনকে খাওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু এবার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ওসিভি ক্যাম্পেইনের আওতায় কম থাকবে। বেশির ভাগ স্থানীয় লোকজনকে খাওয়ানো হবে কলেরা টিকা।

তিনি আরও বলেন, গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফে ১৩৩ জন কলেরা রোগী শনাক্ত হয়েছে। উখিয়াতে কলেরা রোগী শনাক্ত হয়েছে- স্থানীয় ৮ জন আর রোহিঙ্গা ১৩ জন। টেকনাফে কলেরা রোগী শনাক্ত হয়েছে- স্থানীয় ৪৮ জন আর রোহিঙ্গা ৬৪ জন।

ডা. রনজন বড়ুয়া রাজন বলেন, এবারের ক্যাম্পেইনে টিকাদান কেন্দ্র সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকবে। ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য ব্যাপক কর্মযজ্ঞ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সচেতনতা, মাইকিং, সভাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মো. আলমগীর বলেন, নিরাপদ পানি এবং সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে কলেরা রোগ হচ্ছে। এটি একটি পানিবাহিত রোগ। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, উখিয়া-টেকনাফে গত এক বছরে ১৯১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে ১৩৩ জনের কলেরা রোগ শনাক্ত হয়েছে। তবে জেলার অন্য উপজেলায় কলেরা রোগী পাওয়া যায়নি। এই দুই উপজেলায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পুরো জেলাকে কলেরা থেকে নিরাপদ করা সম্ভব।

তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সঠিক সময়ে কলেরা টিকা খাওয়ার আহ্বান জানান।


কক্সবাজার/সুজাউদ্দিন রুবেল/বকুল

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন