RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১০ ১৪২৭ ||  ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আজ পৌষের শেষ বিকেল, ফুলবাড়ীয়ায় উৎসব

মাহমুদুল হাসান মিলন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:১৫, ১৪ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
আজ পৌষের শেষ বিকেল, ফুলবাড়ীয়ায় উৎসব

আজ পৌষের শেষ বিকেল। এ উপলক্ষে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া আয়োজন করা হয়েছে ঐতিহাসিক গুটি খেলার।

এবারের আসরটি ২৬৩তম। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের তালুক-পরগনা সীমানার বড়ই আটায় অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। বিকেল ৪টায় শুরু হবে খেলা। তবে সকাল থেকেই ফুলবাড়ীয়া ও পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল, মুক্তাগাছা উপজেলার লোকজন আসবেন খেলা দেখতে।

সোমবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামগুলোতে চলছে পুরোদমে প্রস্তুতি। ঘরে ঘরে বিভিন্ন স্থান থেকে নাইওরি (আত্মীয়-স্বজন) এসেছেন বেড়াতে। শিশুদের জন্য কেনা হয়েছে নতুন জামা। ঠিকঠাক করে সুর তোলা হচ্ছে পুরনো বাদ্যযন্ত্রে। পিঠাপুলি বানানোর সমস্ত আয়োজন শেষ করছেন গৃহবধূরা। উৎসবে জবাইয়ের জন‌্য কেনা হয়েছে গরু।

এই দিনটি পালনের জন্য এমনভাবে নির্ধারিত যে নতুন করে আর কোনো দিনক্ষণের প্রয়োজন পড়ে না। সময় মতো লাখো মানুষের জমায়েত হয় চিরচেনা বড়ই আটা খেলার মাঠে। পিতলের তৈরি একমণ ওজনের গুটি করায়াত্ত করে নিজ গ্রামে নিয়ে গুম করা পর্যন্ত চলে এই খেলা। আর একে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে চলে অন্যরকম উৎসাহ, উদ্দীপনা। পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

 

 

জানা যায়, মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশীকান্তের সাথে ত্রিশালের বৈলরের হেম চন্দ্র রায় জমিদারের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ হয়। জমিদার আমলের শুরু থেকেই তালুকের প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল ১০ শতাংশে। পরগনার প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল সাড়ে ৬ শতাংশে। একই জমিদারের ভূখণ্ডে দুই নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয়। জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ই আটায় প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় এই গুটি খেলার। শর্ত ছিল, গুটি যেদিকে যাবে তা হবে তালুক, পরাজিত অংশের নাম হবে পরগনা। জমিদার আমলের গুটি খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হন। তালুক পরগনার সীমান্তে জিরো পয়েন্টে ব্রিটিশ আমলে জমিদারী খেলার গোড়াপত্তন। আমন ধান কাটা শেষ, বোরো ধান চাষের আগে প্রজাদের শক্তি পরীক্ষার জন্য জমিদারদের এই পাতানো খেলা চলে আসছে দীর্ঘকাল ধরে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার আব্দুল খালেক বলেন, গুটি এখানকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খেলা। এ নিয়ে গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

গুটি সংরক্ষণকারী মোড়ল পরিবারের চঞ্চল মাহমুদ মোড়ল জানান, আমাদের সব আয়োজন ঠিকঠাক। এখন ক্ষণ গণনা চলছে।

দেওখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান হাদী জানান, এটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। এই খেলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন।

ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি ফিরুজ তালুকদার বলেন, ঐতিহাসিক এ খেলার জন‌্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


ময়মনসিংহ/মিলন/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়