RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭ ||  ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

‘একটা যদি পাই, অমনি ধরে গাপুস গুপুস খাই’

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৭:০৭, ১৪ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
‘একটা যদি পাই, অমনি ধরে গাপুস গুপুস খাই’

‘ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ঐ আমাদের গাঁ,

ঐ খানেতে বাস করে কানা বগীর ছা,

ও বগী তুই খাস কি? পানতা ভাত চাস কি?

পানতা আমি খাই না, পুঁটি মাছ পাই না,

একটা যদি পাই, অমনি ধরে গাপুস গুপুস খাই’

কবি খান মুহাম্মদ মইনুদ্দীনের ‘কানা বগীর ছা’ ছড়ায় এভাবেই বকের মাছ ধরে খাওয়ার কথা বর্ননা করা হয়েছে।

হ্যাঁ কবির লেখা বর্ননা এখনো গ্রাম বাংলায় দৃশ্যমান। গ্রামের প্রান্তরে-প্রান্তরে, নদী-নালায় এবং গাছের ডালে চোখে পড়ে সাদা ধবধবে বকের সারি।

বিশেষ করে এখন শীত মৌসুমে খুলনায় গ্রামের অধিকাংশ ঘেরেই পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বকেরা মাছ খাওয়ার জন্য দল বেঁধে নেমে পড়ে পানিতে। আর কবির বর্ননার মত একটি একটি করে মাছ ধরে আর গাপুস গুপুস খায়। আর সাদা সাদা বকের সারি এবং তাদের সরু, লম্বা ঠোঁটের মাছ ধরা ও খাওয়া দেখে দু’ চোখ জুড়িয়ে যায় এখানকার মানুষদের।

খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক জেলায় এ দৃশ্য এখন প্রতিদিনের। বিশেষ করে বাগেরহাটের চিংড়ি ঘের এলাকাখ্যাত রামপাল উপজেলার প্রায় প্রতিটি ঘেরেই চোখে পড়ে বকের সারি।

এ উপজেলার গৌরম্ভা, রাজনগর, প্রসাদনগর, কালেখারবেড়, কার্পাসডাঙ্গা, কৈ-গরদাসকাটি ও সাপমারিসহ আশপাশ এলাকার বিলগুলোর চিত্র প্রায় একই। এই শীতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘেরগুলোতে বকের সারি চোখে পড়ে।

রামপাল উপজেলার গ্রামের রাজনগর ইউনিয়নের বুজবুনিয়া-কালিকা প্রসাদ গ্রামের কলেজ ছাত্র মো. ইমন শেখ রাইজিংবিডিকে জানান, এখন মৌসুম শেষ হওয়ায় মাছ ধরার জন্য ঘেরের পানি শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ খাওয়ার জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে বক পড়ছে ঘেরের বিলে।

তবে, মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই উড়ে গিয়ে পাশের গ্রামের গাছের ডালে বসে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখতে তাদের বেশ ভালোই লাগে।

একই এলাকার আব্দুস সালাম রাইজিংবিডিকে জানান, আগে অনেকেই ফাঁদ পেতে বক শিকার করতো। কিন্তু এখন কেউ বক মারে না, গ্রামের মানুষ সচেতন হয়েছে। যে কারণে বকের আনাগোনা আগের থেকে বেড়েছে।

কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু দাউদ রাইজিংবিডিকে জানান, আগে গ্রামের ঘের ও বিলে অনেক বেশি বক দেখা যেত। এছাড়া সারস, হাঁস পাখি, পানকৌড়ি ও চুনকুড়িসহ নানা জাতের অতিথি পাথিও ভিড় জমাতো। তখন অনেকেই ইয়ারগান দিয়ে এসব পাখি শিকার করতো। কিন্তু এখন রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে ঘেরের সংখ্যা ও ঝোপঝাড় কমে যাওয়ায় এসব পানিও আসে না। তবে, শুধুমাত্র মাছ খেতে বকের ঝাঁক আসে। আর বক সাধারণ বিল ও পানিতে পড়ায় কেউ শিকারের চেষ্টা করে না।



খুলনা/বুলাকী

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়